নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ইনস্টিটিউটেই নেই লোকবল
- ২৩ পদের ২০টিই শূন্য
- স্থায়ী পরিচালক নেই ১২ বছরেও
- নতুন ভবনে ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজসহ পাঁচটি ইনস্টিটিউট স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজে ১২ বছরেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি স্থায়ী পরিচালক। ইনস্টিটিউটটির অনুমোদিত ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিই শূন্য। মাত্র তিনজন দিয়ে চলছে গবেষণা, প্রকাশনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সংকট ও জনবল ঘাটতিতে ব্যাহত হচ্ছে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে গবেষণার কার্যক্রম।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য ছিল— জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও কর্ম নিয়ে উচ্চতর গবেষণা, তার রচনাবলি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং দেশ-বিদেশে তার সৃষ্টিকর্ম ও দর্শন তুলে ধরা। তবে প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইনস্টিটিউটটির অতিরিক্ত পরিচালক রাসেল আনাম জানিয়েছেন, স্থায়ী পরিচালক না থাকা এবং অনুমোদিত পদের বিপরীতে জনবল সংকট প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনায় বড় প্রতিবন্ধকতা। সীমিতসংখ্যক জনবল দিয়ে নিয়মিত গবেষণা, প্রকাশনা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
স্থায়ী নেতৃত্বের অভাবের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের পরিচালক পদটি সিন্ডিকেট সদস্য হওয়ার সঙ্গে যুক্ত, যা অন্য ইনস্টিটিউটের পরিচালকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী পরিচালক নিয়োগ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পর্যাপ্ত জায়গা ও অবকাঠামোর অভাব প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করেছে। তবে সংকট শুধু অবকাঠামোয় সীমাবদ্ধ নয়। নজরুলের সাহিত্যদর্শন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাকে যথাযথভাবে চর্চার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে ‘নজরুল স্টাডিজ’ বাধ্যতামূলক কোর্স হিসেবে পড়ানো হলেও উচ্চতর গবেষণায় ইনস্টিটিউটটির প্রত্যাশিত ভূমিকা নিশ্চিত হয়নি।
অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ভবন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা। সেখানে ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজসহ মোট পাঁচটি ইনস্টিটিউট স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। নতুন ভবন প্রস্তুত হলে প্রতিষ্ঠানটিকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি নজরুল গবেষণায় অভিজ্ঞ কোনো গবেষক বা বিশেষজ্ঞকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার এক যুগ পরও স্থায়ী পরিচালক নিয়োগ এবং অনুমোদিত পদগুলো পূরণ না হওয়ায় প্রশ্ন ইনস্টিটিউটটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে। নেতৃত্ব ও জনবল সংকটের সমাধান না হলে নজরুল গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশিত ভূমিকা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।



