বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ৩ সেপ্টেম্বর শুরু ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট’

ছবি: আগামীর সময়
দেশের পর্যটন বাণিজ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট (বিটিএম)-২০২৬’।
বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মেলা চলবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ আয়োজনে দেশি-বিদেশি পর্যটন খাতের প্রায় ১০০ প্রদর্শক, ৬০ ট্রেড বায়ার এবং ১৫ হাজার দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের আশা করছেন আয়োজকরা।
আজ সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানালেন, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানালেন, দেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার এই বৃহৎ আয়োজনে দেশি-বিদেশি ট্যুর অপারেটর, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), এয়ারলাইন্স, ট্রাভেল এজেন্সি, পর্যটন সংস্থা এবং ট্রাভেল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে প্রি-শিডিউলড বি-টু-বি বায়ার-সেলার মিটিং। এতে অংশগ্রহণকারী বায়ার ও সেলাররা অনলাইন পিএসএ (প্রি-শিডিউলড অ্যাপয়েন্টমেন্ট) সিস্টেম ব্যবহার করে আগে থেকেই নিজেদের পছন্দের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করতে পারবেন।
মেলায় বি-টু-বি এবং বি-টু-সি কার্যক্রম সম্পূর্ণ পৃথকভাবে পরিচালিত হবে। বি-টু-বি অংশে ট্রাভেল ট্রেড পেশাজীবীরা দেশি-বিদেশি বায়ার ও সেলারদের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক বৈঠক ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, বি-টু-সি অংশে সাধারণ দর্শনার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজ, এয়ার টিকিট, হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং, ভিসা সেবা, আন্তর্জাতিক গন্তব্যের তথ্য এবং বিশেষ ট্রাভেল অফার সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারবেন। অনলাইনে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করলে দর্শনার্থীরা ফ্রি-তে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তবে সরাসরি আসার ক্ষেত্রে জনপ্রতি প্রবেশ ফি দিতে হবে ৫০ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে বোটোয়ার সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ বললেন, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টকে আমরা শুধু একটি প্রদর্শনী হিসেবে দেখছি না। এটি বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের সরাসরি সংযোগ তৈরির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়িক যোগাযোগ যত বাড়বে, দেশের পর্যটন, এভিয়েশন ও হসপিটালিটি খাতে নতুন বাজার, বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সুযোগ তত তৈরি হবে।
ট্রাভেল মার্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর মহসীন ইকবালের ভাষ্য, ‘অনলাইন পিএসএ ব্যবস্থার মাধ্যমে বায়ার ও সেলারদের আগেই পরস্পরের সঙ্গে মিটিং নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে অংশগ্রহণকারীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য, বিটিএম ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারীরা শুধু নেটওয়ার্কিং নয়, বাস্তব ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, নতুন অংশীদার এবং ভবিষ্যৎ বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে ফিরবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাভেল এজেন্সি ট্যুরিজম উইন্ডোর স্বত্বাধিকারী ও সিইও শাহাদাৎ রশিদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।







