ফের চড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল সোমবার আবার বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এই নতুন উত্তেজনার ফলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও মন্থর হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির ভঙ্গুরতা প্রকাশ পেয়েছে। খবর রয়টার্সের।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে ৭২ ডলার ৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের মূল্য ৪৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেড়ে ৬৯ ডলার ৬৭ সেন্টে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে এই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
অথচ গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের পর গত সপ্তাহে এই প্রথম হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর কারণে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।
আইএনজি গ্রুপের বিশ্লেষকরা এক বিশেষ নোটে জানিয়েছেন, তেলের বাজারে এখনো ঝুঁকি কাটেনি। তবে বাজার বিশ্লেষকরা আপাতত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এবং বিশ্ববাজারে এর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের এই আত্মতুষ্টি কিছুটা বিস্ময়কর। কেননা সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দেরি হলে তেলের দাম আবার অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।
গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে টানা তিন সপ্তাহ তেলের দাম কমেছে। গত সপ্তাহের এই দাম কমার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন বেড়ে যাওয়া, যুদ্ধ শুরুর পর গত সপ্তাহে যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে আবারও জাহাজে হামলার ঘটনায় সেই গতি কমে যায়। এর মধ্যে কাতারের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হয়। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির পর এটাই সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
তবে তেলের দাম আরও বাড়তে পারত। গত রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এ সংঘাত থামানো এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আবার আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকরা বলছেন, পারস্য উপসাগর থেকে দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে— বাজারের এ ধারণা এখন নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে।




