পুষ্টি ও শক্তির উৎস

ড. শাকিলা ফারুক
পুষ্টি নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্যের বার্তাকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’-এর গৌরবময় ৩০তম বার্ষিকী। প্রতি বছরের মতো অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার আয়োজিত এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে— ‘Protein that Powers and Protects’ এবং আমাদের দেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিপাদ্য হলো ‘ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগ মুক্তি’— অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গভীর অর্থবহ। উচ্চমানের প্রোটিন ও অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানে ভরপুর ডিমের গুরুত্বকে আরও একবার সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে এ বিশেষ দিনটি।
ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর একটি খাবার। এটি শুধু একটি খাদ্য নয়; বরং মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি, কর্মক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিশেষ করে ডিমের প্রোটিন উচ্চমানের এবং শরীরের প্রয়োজনীয় নয়টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডই এতে বিদ্যমান। ফলে শিশু থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী, প্রাপ্তবয়স্ক, বয়স্ক এবং শারীরিক পরিশ্রমে নিয়োজিত মানুষের জন্য ডিম একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য। আমাদের শরীরের প্রতিটি পর্যায়ের বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রোটিনের ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে পুষ্টিকর খাদ্যের সহজলভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টি নিরাপত্তা শুধু খাদ্যের পরিমাণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; খাদ্যের গুণগত মানও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক্ষেত্রে ডিমের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ডিমের পুষ্টিগত সুফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ ডিম উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ভোক্তাপর্যায়ে নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) দেশের প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতের উন্নয়নে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। বিএলআরআইয়ের প্রকাশনা ও গবেষণা কার্যক্রমের মধ্যে প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি উৎপাদন প্রযুক্তির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে বিএলআরআই গবেষণা করে ডিমের জন্য বিএলআরআই লেয়ার স্ট্রেইন-১ (স্বর্ণা), বিএলআরআই লেয়ার স্ট্রেইন-২ (শুভ্রা) এবং মাংসের জন্য বিএলআরআই মিট চিকেন-১ (সুবর্ণ) উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্ব ডিম দিবস শুধু ডিম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার দিন নয়; এটি নিরাপদ ও পুষ্টিকর প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি সচেতনতা এবং টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের প্রতিও আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন। একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও মেধাবী জাতি গঠনে পুষ্টিকর খাদ্যের বিকল্প নেই। আর সেই পুষ্টিকর খাদ্যের জোগানে ডিমের অবদান নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য। আসুন, বিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন ও সচেতন ভোক্তা আচরণের মাধ্যমে নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী ডিমের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করি এবং একটি সুস্থ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখি।
লেখক: মহাপরিচালক (সাময়িক দায়িত্ব), বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, সাভার, ঢাকা।



