যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
- ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত

সংগৃহীত ছবি
ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও এলএনজি সংগ্রহের পাশাপাশি চাল, সার, নিত্যপণ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬-৩৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে ৫ কার্গো, ২০২৭ সালে ৬ কার্গো এবং ২০২৮ সালে ৩ কার্গো জেকেএম সূচকের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামে কেনা হবে। এ ছাড়া ২০২৯-৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি সরবরাহ করা হবে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান অস্থিরতা মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে আরও এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি এবং হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানির মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এদিকে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পৃথক সভায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা ও গ্যাসের জরুরি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) আরও ৮ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং থেকে ২, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস থেকে ২, চীনের চায়না রুনজে হোল্ডিংস থেকে ২ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দারাব ইনকরপোরেটেড থেকে ২ কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা হবে।
বৈঠকে জ্বালানির পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে বড় অঙ্কের পণ্য আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে ১ লাখ টন নন-বাসমতী সেদ্ধ চাল আমদানিতে ৫১৫ কোটি ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, যেখানে প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার পিটি ট্রিনিটি চাহয়া এনার্জি থেকে ২৫ হাজার টন চিনি ও ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল এবং স্থানীয়ভাবে নাবিল নাবা ফুডস থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কৃষি ও শিল্প খাতের চাহিদা মেটাতে সৌদি আরব ও মরক্কো থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানিতে মোট ৯০২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রায় ৩২০ কোটি ৭১ লাখ টাকার অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিএর নদী খনন প্রকল্প, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো স্থানান্তর এবং ফেনী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবগুলো বৈঠকে অনুমোদিত হয়।




