ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা চান শ্রমিকরা

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সহজবোধ্য এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন শ্রম অধিকার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, আবেদন গ্রহণে বিলম্ব এবং আইনে স্পষ্টভাবে না থাকা অতিরিক্ত প্রশাসনিক শর্ত শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার চর্চায় বাধা তৈরি করতে পারে।
আজ রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সলিডারিটি সেন্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর সাম্প্রতিক সংশোধনের পর ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন’ শীর্ষক অংশীজনদের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় এ দাবি তোলা হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম বলেন, প্রতিটি ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন আবেদনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে মোট কতজন শ্রমিক কাজ করেন সে বিষয়ে নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হচ্ছে। তবে শ্রম আইনের ১৭৮(৫) ধারায় ব্যবস্থাপনার কাছ থেকে এ তথ্য নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
প্রবন্ধে বলা হয়, শ্রম আইনের ১৮২ ধারা অনুযায়ী- কোনো আবেদন ত্রুটিপূর্ণ হলে তা গ্রহণের ১২ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে আপত্তি জানাতে হবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া ৫৫ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে। প্রবন্ধে বলা হয়, আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণে বিলম্ব হলে এই সময়সীমা কার্যত পিছিয়ে যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে লিবাস নিটওয়্যার লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। ইউনিয়নটি ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর আবেদন জমা দেয়। তবে শ্রমিকের সংখ্যা সংক্রান্ত নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র না থাকায় আবেদনটি ফেরত দেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ প্রথমবার আবেদন জমা দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করতে প্রায় ৯৫ দিন সময় লাগে।
এ কে এম নাসিম বলেন, সংশোধিত শ্রম আইনের উদ্দেশ্য ছিল ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে ইউনিয়নগুলো এখনও নতুন নতুন প্রশাসনিক ও বাস্তব বাধার মুখোমুখি হচ্ছে। শ্রমিকদের সংগঠনের স্বাধীনতার অধিকার যেন বাধাগ্রস্ত না হয়ে বরং সহজ হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত ও সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাশাদুল আলম রাজুর ভাষ্য, ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে কর্তৃপক্ষ অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু বাস্তবে আবেদনগুলো মাসের পর মাস সার্ভারে পড়ে থাকে। এটি এখন নতুন এক ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।
এ ব্যাপারে সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন বললেন, অনলাইন ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া উন্নত করার জন্য আইএলও (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। আইএলওর নিশ্চিত করা উচিত যে তাদের সহায়তা ও বিনিয়োগের ফল হিসেবে শেষ পর্যন্ত যেন একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও দক্ষ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এ সবকিছুর পরও আরেকটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা চালু হোক—এটি আমরা দেখতে চাই না।
সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের সমস্যা শিল্প সম্পর্কের অবনতির সঙ্গেও জড়িত। এটি শুধু শ্রমিকদেরই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সুশাসনকেও ব্যাহত করছে এবং কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।








