সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্তি ৬ বছর পার হলে মুনাফা তামাদি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ পূর্তি হওয়ার ৬ বছর অতিক্রম করলে মুনাফা তামাদি করা হবে। আর তামাদি করা অর্থ তামাদি হিসাব সংক্রান্ত সরকারি ঋণ আইন, ২০২২ অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা হবে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এক পত্রের জবাবে সরকারি ঋণ আইন-২০২২ এর ধারা-৩৩ এর বিধান অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তামাদি হিসাব স্পষ্ট করেছে বাংলাদশে ব্যাংক।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে শরিয়াহ ব্যাংক ব্যতীত সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নির্দেশনা দিয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের সংযুক্তিতে বলা হয়, পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপুর্তি পর্যন্ত কুপন মুনাফা মাসিক ভিত্তিতে প্রদেয় হারে প্রাপ্যতার বৈধতা থাকে। সুতরাং, পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপুর্তির তারিখ হতে পরবর্তী ৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরে মুনাফার তামাদি হিসাব প্রযোজ্য হবে। ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের কুপন মুনাফা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপুর্তি পর্যন্ত প্রাপ্যতার বৈধতা থাকে। সেজন্য ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপুর্তির তারিখ হতে পরবর্তী ৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর মুনাফার তামাদি হিসাব প্রযোজ্য হবে। ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা মেয়াদপুর্তির তারিখ হতে পরবর্তী ৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর মুনাফার তামাদি হিসাব প্রযোজ্য হবে। আর সংক্ষিপ্ত কোনো মেয়াদ নির্ধারিত না থাকলে মুনাফা বাবদ পাওনা অর্থ যে তারিখ পর্যন্ত পাওনা হয়েছে, ওই তারিখ থেকে ০৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ওই পাওনা বাবদ সরকারের দায় তামাদি হবে।
জানা গেছে, ৬ বছর অতিক্রম করলে সেই মুনাফার দাবি তামাদি হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণ নিয়মে তখন আর ওই মুনাফা পরিশোধ করা হয় না। তবে মূল বিনিয়োগ এবং তামাদি-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে নিষ্পত্তি করা হয়। এই তামাদি বিধানের উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিন অদাবিকৃত আর্থিক দাবির একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, তামাদি হওয়া মুনাফার অর্থ সরকারের (রাষ্ট্রের) অনুকূলে জমা হয়।
পরবর্তীতে সাধারণ নিয়মে ওই অর্থ আর দাবি করা যায় না, যদি না সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ কোনো বিধান বা অনুমোদনের মাধ্যমে তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।




