মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শেয়ারবাজার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
টানা মন্দা ও টানা বিক্রয়চাপ কাটিয়ে অবশেষে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আশ্বস্তকরণ বার্তা এবং শেয়ারের দাম তুলনামূলক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে কেনাবেচায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এতে বাজারে লেনদেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি প্রধান সূচকগুলোতেও ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে এসেছে।
বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স শূন্য দশমিক এক শতাংশ বা ৬.৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬৬২ পয়েন্টে। অন্যান্য সূচকের মধ্যে ডিএস-৩০ সূচক শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৪১ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। তবে সূচক বাড়লেও ডিএসইর সার্বিক বাজার মূলধন শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৬ হাজার ৯৮৫ বিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় লেনদেনের গতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৬০৮ কোটি ৮০ লাখ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৭১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে গড় শেয়ার হস্তান্তর শূন্য দশমিক আট শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ১৩ লাখে পৌঁছেছে। তবে বাজারটিতে গড় ট্রেড চার দশমিক তিন শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৭ হাজার ৮৮টিতে। বিদায়ী সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে বস্ত্র (৩৩.৬ শতাংশ), সাধারণ বিমা (১২.০ শতাংশ) এবং ওষুধ ও রসায়ন (১১.৩ শতাংশ) খাতে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শুরুতে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যার কারণে করপোরেট আয় কমার শঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম সতর্কতা ও দরপতন লক্ষ করা যায়। বিক্রয়চাপে পড়ে প্রধান সূচকটি গত দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইতিবাচক অবস্থান ও আশ্বাসের পর বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। শেয়ারের দাম বিনিয়োগের উপযোগী হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্রয় শুরু করেন। যদিও সপ্তাহের শেষ দিনে বিনিয়োগকারীদের দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা সার্বিক উত্থানকে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রাখে।
খাতভিত্তিক রিটার্নে সবচেয়ে বেশি লাভজনক অবস্থায় ছিল সাধারণ বিমা (২.৭ শতাংশ), ভ্রমণ ও অবকাশ (১.৪ শতাংশ), পাট (১.৪ শতাংশ) এবং আইটি (১.২ শতাংশ) খাত। বিপরীতে সেবা ও আবাসন (-২.১ শতাংশ), টেলিকমিউনিকেশন (-১.১ শতাংশ) এবং ব্যাংক (-০.৯ শতাংশ) খাত লোকসানের তালিকায় শীর্ষে ছিল।





