অডিট রিপোর্ট দাখিলে অনিয়ম, অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের ৫ লাখ অর্থদণ্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নির্ধারিত সময়ে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা না দেওয়ায় শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে জমা না দেওয়ার পাশাপাশি ২০২২ সালের আর্থিক বিবরণীও প্রায় এক মাস দেরিতে দাখিল করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। দুই বছরের এ ব্যত্যয়কে সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১-এর বিধি ৩৩(৩)-এর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করায় শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের আইন ও বিধি পরিপালনে ব্যর্থতা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনটির ধারা ১৮-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। জরিমানার ৫ লাখ টাকা আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে বিএসইসির অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএসইসি বলছে, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১-এর বিধি ৩৩(৩) অনুযায়ী কোনো সম্পদ ব্যবস্থাপককে প্রতিটি হিসাব বছরের নিরীক্ষিত হিসাব বছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কমিশন, ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ানের কাছে জমা দিতে হয়। কিন্তু অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাখ্যা চায় বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ। জবাবে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল জানায়, বিএসইসির চলমান তদন্তের কারণে তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা দুই মিউচ্যুয়াল ফান্ড—এমটিবি ইউনিট ফান্ড এবং অ্যালায়েন্স সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ডের লেনদেন স্থগিত ছিল। ফলে ফান্ডগুলোর অডিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। একই কারণে নিজস্ব আর্থিক বিবরণীর অডিটও শেষ করা যায়নি বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।
শুধু ২০২৩ সালের আর্থিক বিবরণী নয়, ২০২২ সালের হিসাবের ক্ষেত্রেও একই বিধি লঙ্ঘনের তথ্য পেয়েছে কমিশন। ৩০ জুন ২০২২ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা ২৭ অক্টোবর ২০২২ তারিখে জমা দেয়। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস পর আর্থিক বিবরণী দাখিল করা হয়।
জরিমানা এড়াতে চলতি বছরের গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার আসাদুল ইসলাম এবং হেড অব রিসার্চ আশিক রায়হান লিখিত ব্যাখ্যা দেন।
সেখানে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, দুই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ওপর দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধের কারণে তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অডিট, কর ও ভ্যাট পরিশোধ, আরজেএসসিতে ফাইলিং, বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লাইসেন্স নবায়ন এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ফি পরিশোধসহ একাধিক কার্যক্রম সময়মতো করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, বিএসইসি, ট্রাস্টি, কাস্টডিয়ান ও সিডিবিএলকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ, নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) প্রকাশ, বাধ্যতামূলক তথ্য প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো বজায় রাখতেও তারা সমস্যায় পড়েছে। এমনকি ফান্ড থেকে ব্যবস্থাপনা ফি না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে বিএসইসি প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। কমিশনের মতে, তাদের বক্তব্যেই আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে।







