ধৈর্য ধরলে মিলবে উচ্চ রিটার্ন
- স্বল্পমেয়াদি মুনাফার মানসিকতা পরিহার করে এফডিআরের মতোই বিনিয়োগ করতে হবে

সংগৃহীত ছবি
দেশের অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ারবাজার এখনো ‘জুয়ার বাজার’ হিসেবে পরিচিত। অতীতে কিছু অসাধু চক্রের কারসাজির কারণে এ ধারণা সৃষ্টি হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সঠিক কোম্পানি নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিনিয়োগ করলে এখানে ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) চেয়ে বেশি রিটার্ন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে তালিকাভুক্ত প্রায় ৪০০ কোম্পানির মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এমন মূল্যে লেনদেন হচ্ছে, যা থেকে বছরে ১০ শতাংশের বেশি সম্ভাব্য রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য স্বল্পমেয়াদি মুনাফার মানসিকতা পরিহার করে এফডিআরের মতোই ধৈর্য ধরে বিনিয়োগ করতে হবে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন কেলেঙ্কারির প্রভাবে ব্যাংক খাতের শেয়ারদর চাপের মধ্যে থাকায় বর্তমানে এ খাতের গড় মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৫ দশমিক ১৬ পয়েন্ট, যা প্রায় ১৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ সম্ভাব্য বার্ষিক রিটার্নের সমান। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের গড় পিই ৬ দশমিক ৩০ পয়েন্ট, যা ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ বার্ষিক রিটার্নের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের গড় পিই ৯ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট, যা থেকে ১০ দশমিক ২১ শতাংশ সম্ভাব্য বার্ষিক রিটার্ন নির্দেশ করে।
অবশ্য খাতভিত্তিক গড় পিই কম হলেই সব কোম্পানি আকর্ষণীয় নয়। তাই বিনিয়োগের আগে কোম্পানির মুনাফা, সম্পদের মান, নগদ প্রবাহ, লভ্যাংশের ইতিহাস, করপোরেট সুশাসন ও শেয়ারের বর্তমান মূল্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ডিএসইর তথ্যমতে, বর্তমানে সবচেয়ে কম পিইতে লেনদেন হচ্ছে সাউথইস্ট ব্যাংকের, যার পরিমাণ ২ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে যমুনা ব্যাংকের ৩ দশমিক শূন্য ৯, পদ্মা অয়েলের ৩ দশমিক ৪৪, এনসিসি ব্যাংকের ৩ দশমিক ৬০, প্রাইম ব্যাংকের ৩ দশমিক ৮৩, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৩ দশমিক ৯২, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৪ দশমিক শূন্য ২, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৪ দশমিক ১১, উত্তরা ব্যাংকের ৪ দশমিক ১৩ এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৪ দশমিক ২০ পয়েন্ট।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেছেন, ‘ব্যাংকে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে এফডিআর ভাঙলে যেমন প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়া যায় না, শেয়ারবাজারেও ঠিক একই ধরনের ধৈর্য প্রয়োজন। অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনেই রাতারাতি বড় মুনাফা আশা করেন, যা একটি মূল সমস্যা। অথচ ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে বছরে ১০ শতাংশের বেশি রিটার্ন অর্জন করা সম্ভব। শেয়ারবাজারে সফল হতে হলে এফডিআরের মতোই ধৈর্য ধরে বিনিয়োগ করতে হবে।’
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মূল্য ওঠানামার পরিবর্তে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয় সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিলে শেয়ারবাজারও হয়ে উঠতে পারে একটি লাভজনক বিনিয়োগমাধ্যম।




