ব্যয় কমিয়ে মুনাফা বাড়ানোর পথে চার্টার্ড লাইফ

ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
অলাভজনক শাখা বন্ধ, জনবল পুনর্গঠন ও ওভারহেড ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপের ফলে ২০২৫ সালে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এতে বছর শেষে ৬৪ লাখ টাকা মুনাফা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দরও ইস্যু মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশিতে অবস্থান করছে।
কোম্পানিটির ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাবের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
চার্টার্ড লাইফের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে জানিয়েছে, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অলাভজনক শাখা বন্ধ, জনবল পুনর্গঠন এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
নিরীক্ষকের হিসাব অনুসারে, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মুনাফা ৬৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা হতে পারত। ফলে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা আনা গেলে ভবিষ্যতে মুনাফা বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরও মুনাফা ধরে রেখেছে চার্টার্ড লাইফ। ২০২২ সালে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৯০ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি আয় ২৪ পয়সা। ২০২৩ সালে মুনাফা হয় ৫৯ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি আয় ১৬ পয়সা। ২০২৪ সালে ৪১ লাখ টাকা লোকসানের পর ২০২৫ সালে আবার ৬৪ লাখ টাকা মুনাফায় ফিরেছে কোম্পানিটি।
ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ২০২২ সালে আইপিওর মাধ্যমে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল চার্টার্ড লাইফ। এর মধ্যে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে এবং ৬ কোটি টাকা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের পরিকল্পনা ছিল।
ওই বছরের ৩০ অক্টোবর শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় চার্টার্ড লাইফের। আইপিওতে কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ার ইস্যু করে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারদর ৪৫ টাকা ৩০ পয়সা। অর্থাৎ আইপিওতে ১০ টাকায় ইস্যু করা শেয়ারের দর বেড়ে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির একটি ইতিবাচক দিক।
বর্তমানে চার্টার্ড লাইফের পরিশোধিত মূলধন ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া অন্যান্য শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে কোম্পানিটির ৪০ শতাংশ শেয়ার।





