চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স
মুনাফার চেয়ে অনিয়ম বেশি

দুর্বল ব্যবসা নিয়ে চার বছর আগে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। ব্যবসা সম্প্রসারণ ও মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও কোনো ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যায়নি। উল্টো কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু ২০২৫ সালেই আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি যে পরিমাণ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে, তা তাদের ওই বছরের মোট মুনাফার প্রায় ১২ গুণ। কোম্পানিটির ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব চিত্র।
নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চার্টার্ড লাইফ বীমা আইনের নির্ধারিত সীমার চেয়ে ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৭ টাকা বেশি ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে। আর্থিক বিবরণীর ৩১ নম্বর নোটে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই বছর তাদের মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়েছে ৩৯ কোটি ২১ লাখ ৫ হাজার ২১৭ টাকা, যা বীমা আইন ২০১০-এর ৬২(২) ধারায় উল্লিখিত অনুমোদিত সীমার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নিরীক্ষকরা বলছেন, কোম্পানিটি যদি এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, তবে ২০২৫ সালে তাদের মুনাফা মাত্র ৬৪ লাখ টাকার বদলে লাফিয়ে ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকায় উন্নীত হতো।
আইনবহির্ভূত এই বিপুল ব্যয়কে বৈধতা দিতে বীমা আইনের ৬২(১) ধারা অনুযায়ী, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে ছাড়পত্রের আবেদন করেছে চার্টার্ড লাইফ। তবে নিরীক্ষক নিশ্চিত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত আইডিআরএর পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত কোনো ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি। অবশ্য আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, অলাভজনক শাখা বন্ধ, জনবল পুনর্গঠন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় গত বছরের তুলনায় তাদের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমেছে অন্তত ১৫ শতাংশ।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক ব্যবসায়িক খরা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর লেনদেন শুরুর সময় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তোলা ১৫ কোটির মধ্যে ৭ কোটি ৯০ লাখ শেয়ারবাজারে এবং ৬ কোটি টাকা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই বছর কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২৪ পয়সা করে ৯০ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল। পরের বছর মুনাফা কমে ৫৯ লাখ টাকায় বা শেয়ারপ্রতি ১৬ পয়সা দাঁড়ায়। পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হয় ২০২৪ সালে, সে বছর কোম্পানিটিকে ৪১ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ১১ পয়সা লোকসান গুনতে হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে মুনাফা সামান্য বেড়ে ৬৪ লাখ টাকায় বা শেয়ারপ্রতি ১৭ পয়সা দাঁড়ালেও সার্বিক প্রবৃদ্ধির চিত্র ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক।
বর্তমানে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া অন্য বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে কোম্পানিটির ৪০ শতাংশ শেয়ার।





