ব্যবস্থার নির্দেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের
- মশিউর সিকিউরিটিজের অর্থ লোপাট

ফাইল ছবি
প্রায় দেড় বছর আগে মশিউর সিকিউরিটিজের প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন। সে সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। অবশেষে বাধ্য হয়ে সরকারের দ্বারস্থ হয়েছেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সাবেক এই পরিচালক। তার ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯৯ টাকার শেয়ার অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পুঁজিবাজার-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। চিঠিতে মশিউর সিকিউরিটিজ কর্তৃক সাজ্জাদ হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে বিএসইসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ২১ জুন বিও হিসাব (নম্বর- ৪২০৮৩) থেকে শেয়ার বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী।
মো. সাজ্জাদ হোসেনের অভিযোগ অনুসারে, বিও হিসাব থেকে তার অজান্তে ও অনুমতি ছাড়াই বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম ফুডের ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৪ টাকার ২ হাজার ২৬টি শেয়ার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯০ টাকা মূল্যের ১ হাজার শেয়ার, ঢাকা ডাইংয়ের ৩৭ হাজার ৭১৫ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৫৯০টি শেয়ার এবং ওরিয়ন ফার্মার ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের ৭ হাজার ৫০০টি শেয়ার। সব মিলিয়ে আত্মসাৎ করা শেয়ারগুলোর মোট মূল্য ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯৯ টাকা।
আবেদনে সাজ্জাদ হোসেন জানালেন, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর মশিউর সিকিউরিটিজ থেকে পাওয়া তার পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট এবং ৬ নভেম্বর সিডিবিএল থেকে পাওয়া দৈনিক বিও-আইসিন হোল্ডিং রিপোর্টের তুলনায় এই অসংগতি ধরা পড়ে। ওই সময় তিনি দেখতে পান, তার বিও হিসাবে থাকা উল্লিখিত শেয়ারগুলো উধাও হয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ডিএসইতে লিখিত অভিযোগ দিয়ে শেয়ারবাজারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শেয়ারের মূল্য ফেরত পেতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। একই অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছিল তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে।
জানতে চাইলে মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, প্রায় দেড় বছর আগে শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলাম। তবে কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।
উল্লেখ্য, দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিয়েছে মশিউর সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে বিনিয়োগকারীদের ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিনিয়োগকারীদের ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ লোপাট করে সালতা ক্যাপিটাল। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাতটি ব্রোকারেজ হাউজ মোট ৬৫০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার-অর্থ আত্মসাৎ করেছে।




