বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান
বাড়ছে বাজেট সহায়তায়, কমছে খাদ্যে

প্রতীকী ছবি
দেশে বৈদেশিক সহায়তার ধরনে এসেছে বড় পরিবর্তন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে দিন দিন বাড়ছে বাজেট সহায়তার অংশ। অন্যদিকে কমছে খাদ্য সহায়তা। তবে বাজেট সহায়তা বাড়ায় কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই ঋণ পাচ্ছে সরকার। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান আসছে প্রকল্প সহায়তায় (৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ), দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাজেট সহায়তা (৯ দশমিক ৬ শতাংশ), আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পণ্য সহায়তা (৭ দশমিক ৭ শতাংশ)। আর সবচেয়ে কম সহায়তা আসছে খাদ্যে (৫ শতাংশ)।
ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এক সময় আমরা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ছিলাম। তখন প্রধান অগ্রাধিকার ছিল খাদ্য। কিন্তু ধীর ধীরে দেশ অগ্রগতির দিকে গেছে। খাদ্য উৎপাদনে অনেক ক্ষেত্রে প্রায় স্বয়ংসম্পন্ন। এ প্রেক্ষাপটে খাদ্যসহায়তা গুরুত্ব নয়। বরং এটি কমাটাই ভালো।’
বাজেট সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আমাদের এখনকার প্রায়োরিটি হওয়া উচিত বাজেট সহায়তা পাওয়া। কেন না কিছু সংস্কারের শর্তে এই ঋণ মেলে। এতে যেসব আর্থিক সংস্কারের শর্ত দেওয়া হয়; সেগুলো করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের জন্যই ভালো। পাশাপাশি এই ঋণের অর্থ আমরা যেকোনো অগ্রাধিকার খাতেই ব্যয় করতে পারি। এতে কোনো বাঁধা নিষেধ থাকে না।’
ইআরডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭১-৭২ অর্থবছরে বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে খাদ্য সহায়তা ছিল ১০ কোটি ডলারের বেশি। সেটি ১৯৭৯-৮০ অর্থবছরে গিয়ে দাঁড়ায় ৪০ কোটি ডলারে। পরে ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে সেটি কমে ২০ কোটি ডলার এবং ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে আরও কমে হয় ১০ কোটি ডলার। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটি দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটি ডলারের নিচে।
ইআরডি বলেছে, খাদ্য সহায়তা এখন সীমিত পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় মাঝেমধ্যে নেওয়া হয় এই সহায়তা। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বনির্ভরতা অর্জনেরই প্রতিফলন।
এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেট সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। পরে ২০২০-২১ অর্থবছরে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০০ কোটি ডলারে। এ ছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে হয় ২০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সহায়তার পরিমাণ ছিল ৩৫০ কোটি ডলার।
ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্রাধিকারমূলক নীতি কর্মসূচিতে অর্থায়নের জন্য বাজেট সহায়তা সাধারণত এক বা একাধিক কিস্তিতে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতির অধীনে অর্থ বিতরণ, প্রাপক দেশ এবং বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পূর্ব-সম্মত নীতিগত পদক্ষেপ এবং সংস্কারের মানদণ্ড পূরণের শর্তসাপেক্ষ।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প সহায়তার তুলনায় বাজেট সহায়তা অধিক নমনীয়। কারণ এর মাধ্যমে সম্পদকে জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার এবং আর্থিক চাহিদার সঙ্গে আরও সরাসরি সমন্বয় করা যায়। ফলে অর্থায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে বাজেট সহায়তা গুরুত্ব লাভ করেছে, যদিও তা অনিয়মিত এবং বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়।






