পাকিস্তানের ৫৩ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত
- বিশ্ব জুড়ে মাদক ব্যবহারকারী ৩১ কোটি ৬০ লাখ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পাকিস্তানে মহামারির আকার ধারণ করেছে মাদকাসক্তি। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী করাচি মাদকের সবচেয়ে বড় শিকার। শহরটিতে প্রতি চারটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্য প্রাণঘাতী নেশায় আক্রান্ত। একসময় পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে পাল্টেছে সেই চিত্র। দেশটি এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবহারকারী রাষ্ট্র।
২০২২ সালের জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয় পাকিস্তানে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭৬ লাখ। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ লাখে। প্রতি বছর এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরও হাজার হাজার মানুষ।
ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমাজের সব স্তরে ছড়াচ্ছে এই মরণব্যাধি। রেহাই পাচ্ছে না নামিদামি বেসরকারি স্কুল থেকে শুরু করে সরকারি কলেজ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের তরুণরাও। ২০২২ সালের অ্যান্টি-নারকোটিক্স ফোর্স (এএনএফ) সংশ্লিষ্ট এক জরিপে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনোভাবে মাদকের সংস্পর্শে এসেছে। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ স্বীকার করেছে মাদক ব্যবহারের কথা।
আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় হেরোইন, কোকেন, সিনথেটিক ড্রাগ ও ট্রাঙ্কুলাইজারের মতো ভয়াবহ মাদকগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসে প্রকাশিত প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছে।
এমন সংকটে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত পরিস্থিতি মোকাবিলায়। প্রথমত, মাদকাসক্তিকে নৈতিক স্খলন বা সামাজিক অপরাধ হিসেবে না দেখে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ বিবেচনা করতে হবে। সামাজিক কুসংস্কার এবং শাস্তিমূলক মনোভাব থাকায় ভুক্তভোগীরা নিজেকে লুকিয়ে বেড়ায়। ফলে আড়ালে থেকে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় মাদক ব্যবসায়ীরা।
দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে মাদকবিরোধী অভিযানগুলো প্রায়ই ব্যর্থ হচ্ছে। পুলিশ ও এএনএফের হাতে বড় বড় মাদক কারবারি ধরা পড়লেও তাদের সাজা হওয়ার হার অত্যন্ত কম। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অপরাধীদের মনে শাস্তির ভয় তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন; যেহেতু মাদক পাচারকারীরা নির্ভয়ে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
তৃতীয়ত, পাকিস্তানের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় ‘আকস্মিক’ মাদক পরীক্ষা, নিয়মিত কাউন্সেলিং ও দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা সংবলিত সুনির্দিষ্ট মাদক নীতি প্রণয়ন প্রয়োজন। প্রাদেশিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগগুলো চাইলে পাঠ্যসূচিতে ‘মাদকবিরোধী অধ্যায়’ রাখতে পারে। সহজ করতে পারে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা। এই সামাজিক মরণব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব একটি শক্তিশালী পুনর্বাসন কাঠামো ও সহায়ক গোষ্ঠী গড়ে তোলার মাধ্যমে। কারণ মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো পরিবার ও সমাজ গ্রাস করে।
ভাষান্তর: নাজমুস সাকিব রহমান





