এলএনজি মিলছে মাত্র ৩৬ শতাংশ

ছবি: আগামীর সময়
আমদানীকৃত এলএনজি নিয়ে বিপদ কাটছেই না। আমেরিকান কোম্পানির এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে বয়লার বিস্ফোরণের রেশ না কাটতেই এবার বিপদে পড়েছে আরেক দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের টার্মিনাল। এই টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ ধস নেমে আজ বুধবার মাত্র ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।
এতদিন সামিট সক্ষমতার পুরোটাই প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়ার এক্সিলারেটের সরবরাহ সংকট কিছুটা সামাল দেওয়া গিয়েছিল। সামিটের টার্মিনাল দিয়ে সরবরাহ কমায় পুরো এলএনজি সরবরাহ বড় সংকটে পড়ল।
এক্সিলারেটর এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেই টার্মিনালের একটি বয়লার দিয়ে কেবল ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে। পুরো সক্ষমতায় এলএনজি সরবরাহ দিতে গেলে এই টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সংকটের এই সময়ে এখনই সেই উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী, ফলে সামিটই ছিল পেট্রোবাংলার ভরসা!
বুধবার রাতের মধ্যেই এলএনজিবাহী জাহাজ সংযোগ করা সম্ভব না হয়, তাহলে বৃহস্পতিবার থেকে সামিট টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে শঙ্কা।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির জানিয়েছেন, ‘এলএনজিবাহী জাহাজ সাগরেই আছে। ভাসমান টার্মিনাল এলাকার সাগরে বাতাসের এত স্পিড কোনোভাবেই টার্মিনালের কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণত আমরা বাতাসের স্পিড ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত থাকলে জাহাজের সঙ্গে টার্মিনালের সংযোগ দেওয়া যায়। এখন স্পিড ৩৬ নটিক্যাল মাইল। তাই কোনোভাবেই টার্মিনালে সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস সংযোগকারী এসটিএস টিম মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সাগর শান্ত হলেই কেবল সংযোগ সম্ভব।’
একই প্রতিষ্ঠানের আরেক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আজকে সংযোগ দিতে না পারলে বৃহস্পতিবার থেকে সামিট টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হবে না। এসব নিয়ে বেশ পেরেশানিতে আছি।’
গ্যাস সঞ্চালন লাইন পরিচালনা প্রতিষ্ঠান জিটিসিএল’র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট দেওয়া হয়েছিল। বুধবার দুটি ভাসমান টার্মিনাল দিয়ে সেই সরবরাহ ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। মোট এলএনজি সরবরাহ ধস নামার প্রভাব বেশি পড়েছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের দৈনিক সাড়ে ৩০০ মিলিয়ন গ্যাস চাহিদার পুরোটাই মিলত এলএনজি থেকে। এখন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পাচ্ছে মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার বিপরীতে চট্টগ্রামে মিলছে ৫১ শতাংশ। এই সংকটের কারণে চট্টগ্রামে বড় ধরনের গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে গ্যাসশূন্য হতে পারে চট্টগ্রাম।
গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড এবং আশপাশের পোশাক, টেক্সটাইল, ডায়িং ও স্পিনিং মিলগুলো সচল দায় হয়ে পড়েছে। গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় বয়লার ও ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট চালানো যাচ্ছে না। একাধিক ডায়িং কারখানা বন্ধ আছে এখনো। রড ও ইস্পাত প্রস্তুতকারী প্ল্যান্টে গ্যাস সংকটে মেটাল মেল্টিং বা রি-রোলিং প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস স্টেশনে গাড়ির লাইন ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়েছে বাসাবাড়িতে গ্যাস ব্যবহারকারীরা।




