বিনিয়োগে নতুন নীতি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ (বিএসইসি) শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনিয়োগের পরিধি বাড়ছে। এখন থেকে তারা নন-কনভার্টিবল বন্ড, ওপেন-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এবং রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইট)— এই চার ধরনের সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে পারবেন। আগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু দুটি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ ছিল। সম্প্রতি পুনর্গঠিত কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে বিশ্বস্ত সূত্রে।
তবে এই চার খাতের বাইরে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের শেয়ারবাজারের অন্য কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে না। ফলে কর্মীদের সরাসরি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ আগের মতোই বহাল থাকছে। অন্যদিকে অনুমোদিত বিনিয়োগের ক্ষেত্র বাড়ানো হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, শুধু বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, দেশের শেয়ারবাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের এক্সচেঞ্জগুলো, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) এবং বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটস (বিএএসএম)। অর্থাৎ শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মচারী নন, বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের বিষয়ে অভিন্ন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএসইসির এক সভায় কর্মীদের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্মচারী কর্তৃক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২১’ নামঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে একই সঙ্গে কমিশনের কর্মীদের বন্ড ও ওপেন-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রশাসনিক আদেশ জারির সিদ্ধান্ত হয়। পরে ওই বছরের ৩ মার্চ এ বিষয়ে জারি করা হয়েছিল অফিস আদেশ। অর্থাৎ ২০২২ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএসইসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুমোদিত বিনিয়োগের সুযোগ ছিল মূলত বন্ড ও ওপেন-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডে। নতুন সিদ্ধান্তে সেই দুটি ক্ষেত্র বহাল রেখে নতুন করে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড এবং রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টকে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আগে যেখানে বিনিয়োগের ক্ষেত্র ছিল দুটি, এখন তা বেড়ে চারটিতে দাঁড়াচ্ছে। এতে কর্মীদের বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ বাড়ছে এবং তৈরি হচ্ছে নির্দিষ্ট মাধ্যমের মধ্যে অর্থ বিনিয়োগের বিকল্প পথ।
নতুন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিনিয়োগের ক্ষেত্র বাড়লেও কর্মীদের সরাসরি শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের বিনিয়োগে সীমাবদ্ধতা আরোপের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্বার্থের সংঘাত এবং সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি কমানো। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বাজার, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, লেনদেন ও নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্যের সংস্পর্শে আসেন। তাই সরাসরি বিনিয়োগ সীমিত রেখে নির্দিষ্ট বিনিয়োগ মাধ্যম অনুমোদনের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএসইসির কর্মীদের জন্য প্রশাসনিক আদেশ জারি করবে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স ডিভিশন। অন্যদিকে এক্সচেঞ্জগুলো সিডিবিএল, সিসিবিএল, বিআইসিএম এবং বিএএসএমের কর্মীদের বিষয়ে নির্দেশনা জারির জন্য বিষয়টি কমিশনের আইন বিভাগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেছেন, বিএসইসিসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নতুন খাতে বিনিয়োগের সুবিধা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নিশ্চিত করতে হবে এতে যেন কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না হয়।




