অনুদানেও চীনের ধীরে চলো নীতি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শুধু ঋণচুক্তিই নয়, অনুদান দিতে গিয়েও ধীরে চলো নীতিতে এগোচ্ছে চীন। বাংলাদেশে একটি হাসপাতাল করতে অনুদান দেওয়ার কথা থাকলেও পেরিয়ে গেছে প্রায় আড়াই বছর, কিন্তু এখনো চূড়ান্ত কিছুই হয়নি। অথচ প্রতিশ্রুতি মতো স্থান নির্বাচনসহ পুরো একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে বসে আছে সরকার।
জানা গেছে, নীলফামারীতে ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ’ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। বাকিটা সরকারের নিজস্ব তহবিলের। এক হাজার শয্যার এ বিশেষায়িত হাসপাতালটি তৈরি হলে প্রতিদিন ৬ থেকে সাড়ে ৯ হাজার মানুষ সেবা নিতে পারবেন। ইনডোরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হতে পারে ৮০০ থেকে ১ হাজার। এ ছাড়া বহির্বিভাগে দৈনিক রোগী আসবে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩৫০ জন। এসব সেবা কার্যক্রম পরিপালনের জন্য দরকার হবে এক থেকে দেড় হাজার চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী। কিন্তু চীনের অনুদানের অর্থ না পাওয়ায় আটকে আছে প্রকল্পটি।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় নেয় চীন। বিশেষ করে তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠতে হয়। অনেক বেশি যাচাই-বাছাই এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা। কিন্তু অনুদানের ক্ষেত্রে এত বেশি সময় নেওয়া কথা নয়। এখন দেখা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে দেশটি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে চীনের একটি প্রতিনিধিদল নীলফামারী গিয়ে হাসপাতালের জন্য নির্বাচিত স্থান পরিদর্শন করে গেছে। এ ছাড়া আর কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। এমনকি কবে নাগাদ অনুদানের অর্থ পাওয়া যাবে, সেটিও এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, চীন সরকার প্রায় দুই বছর আগে বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করার আগ্রহ দেখায়। তখন বিভিন্ন জেলা থেকে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন আসে। অনেক যাচাই-বাছাই করে শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নীলফামারীতে এটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, আশপাশের জেলাগুলোয় ভালো হাসপাতাল থাকলেও নীলফামারীতে নেই। এরপর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরিতেও চলে যায় বেশ খানিকটা সময়। অবশেষে গত জানুয়ারিতে এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গত এপ্রিলে এটির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় দশতলার ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’ ভবন, এ ছাড়া নার্সদের জন্য ছয়তলা ডরমিটরি এবং অন্য কর্মচারীদের জন্য দশতলা ভবন তৈরি করা হবে। থাকবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ভবন, সার্ভিস ভবন, একটি হেলিপ্যাড ও অটোমেটেড অ্যাম্বুলেন্স সিস্টেম। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ব্যয় হবে ৯৪৫ কোটি, ভবন নির্মাণে ৮০২ কোটি এবং সোলার প্যানেল, সিসিটিভি ও আনুষঙ্গিক কাজে ২৪৮ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, বহির্বিভাগের চিকিৎসক দেখানোর ফি হবে ৫০ থেকে ১০০; বহির্বিভাগে বিশেষজ্ঞ ফি ১০০ থেকে ৩০০; জরুরি বিভাগের ফি ১০০ থেকে ২০০; প্রাথমিক রক্ত ও প্রসাব পরীক্ষা ২৫০ থেকে ৫০০; রোগ নিরূপণে বিশেষায়িত পরীক্ষার খরচ হতে পারে ৫-১০ হাজার টাকার মধ্যে। এ হাসপাতালটি আন্তর্জাতিকমানের সেবা নিশ্চিত করবে।
প্রসঙ্গত এর আগে বিভিন্ন সময় চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে অনুদান দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অনুদান দেয় চীন।




