পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে রসিদ প্রদান বাধ্যতামূলক
- ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ

সংগৃহীত ছবি
বাজার কিংবা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে ক্রেতারা প্রায়ই নানা প্রতারণার শিকার হন। সাধারণ দোকানে রসিদ না দেওয়া কিংবা অনলাইনে নিম্নমানের পণ্য দেওয়ার মতো ভোগান্তি দূর করতে এবং বাণিজ্যে স্বচ্ছতা আনতে প্রস্তাবিত নতুন আইনে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে রসিদ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা দূর করে বাণিজ্যে ক্রেতাদের সুরক্ষা সুদৃঢ় করতে ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মতামত গ্রহণের জন্য খসড়াটি সম্প্রতি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যা ৩০ দিন উন্মুক্ত থাকবে। তদারকি জোরদারে বাংলাদেশ ব্যাংক, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিনিধিদের যুক্ত করে জাতীয় ভোক্তা পরিষদ ও জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে ক্যাশ মেমো বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি রসিদের সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, বিক্রেতা বিক্রয়ের সময় ক্রেতাকে মুদ্রিত রসিদ না দিলে তা সরাসরি ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কাজ বলে গণ্য হবে। নতুন ধারা অনুযায়ী, এই অপরাধের জন্য বিক্রেতা অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
দেশে বর্তমানে ৪৫ হাজারের বেশি অনলাইন প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো এ বর্ধনশীল ডিজিটাল বাণিজ্যের জন্য কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা শুরুর প্রাক্কালে নিবন্ধন নিতে হবে এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি বা ডিবিআইডি প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি অনলাইনে পণ্যের সঠিক বিবরণ ও পরিমাপ প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আগের আইনের তুলনায় সংশোধিত খসড়ায় অপরাধের জরিমানার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। অসাধু সিন্ডিকেট রোধে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে পণ্য মজুদ করলে জরিমানা বাড়িয়ে অনূর্ধ্ব দুই বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ভেজাল খাদ্য বা নকল পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে জরিমানা বাড়িয়ে অনধিক ৩ লাখ টাকা ও দুই বছরের কারাদণ্ড রাখা হয়েছে।
মূল্যতালিকা বা মোড়ক ব্যবহার না করা, মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচার, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ কিংবা ওজনে কারচুপি করার অপরাধে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড এবং ১ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। একই অপরাধ বারবার করলে প্রথমবার আরোপিত দণ্ডের দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হবে।
ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে আগের আইনের চেয়ে নতুন সুযোগ আনা হয়েছে। এখন ভোক্তারা ডিজিটাল মাধ্যমে ঘরে বসেই অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগের সময়সীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। এখন শুধু জরিমানা নয়; বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বদলে দেওয়া, মূল্য ফেরত দেওয়া কিংবা গ্রাহকের অগ্রিম অর্থ সরাসরি ফেরত দেওয়ার সুযোগ যুক্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান আগামীর সময়কে বললেন, ‘ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সরাসরি কোনো ম্যাজিস্ট্রিয়াল ক্ষমতা নেই, তারা মূলত অর্থদণ্ড করতে পারেন। নতুন খসড়া আইনটি মূলত একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে করা হয়েছে, তাই অন্যান্য দেশের মতো এখানে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি রাখা হয়নি। তবে কেনাকাটায় ক্যাশ মেমো বা রসিদ বাধ্যতামূলক করার বিধানটি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা বাজারে কারসাজি রোধে সহায়ক হবে। ক্রেতাস্বার্থে আইনটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’



