পিডি নিয়োগে নতুন নীতিমালা, আপত্তি শুধু নেয়ামত উল্যার

ছবি: এআই
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে থেকে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের সুযোগ রাখার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের একমাত্র সদস্য। তিনি কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নেয়ামত উল্যা ভুঁইয়া। তবে বৈঠকে তার আপত্তি শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়নি।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও অন্য কেউ প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেননি। তবে নেয়ামত উল্যা ভুঁইয়া প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা তুলে ধরে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ নীতিমালা–২০২৬-এর খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শকিল আখতার, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সচিবসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে থেকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ রাখার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে কোনো মতামত দেননি অন্য কেউ।
সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, আলোচনার একপর্যায়ে নেয়ামত উল্যা ভুঁইয়া বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে থেকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ রাখা হলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। যাদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা থাকবে না, তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারেন। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রস্তাবটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বৈঠকে তিনি আরও বললেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছর এনজিওরাই দেশ চালিয়েছে। এর সুফল কী হয়েছে, তা সবারই জানা।
সূত্রগুলো জানায়, নেয়ামত উল্যা ভুঁইয়ার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সভায় জানানো হয়, এটি এখনো একটি খসড়া নীতিমালা। চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। ফলে এ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি আগামীর সময়কে বলেন, প্রকল্প পরিচালকের পদ একটি টেকনিক্যাল পদ। এখানে রাজনৈতিক নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। তিনি বললেন, খসড়া প্রস্তাবটি এখনো বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। অনুমোদনের আগে আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে এবং সর্বশেষ অনুমোদন দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ নীতিমালা–২০২৬-এর খসড়ায় নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে বেসরকারি ব্যক্তি, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের সরকারি প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক, উপপ্রকল্প পরিচালক ও সহকারী প্রকল্প পরিচালক পদে আবেদন করার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়ায় প্রকল্প পরিচালকদের বেতন বা ভাতা সর্বোচ্চ মাসিক ৭ লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
নীতিমালার এই খসড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সরকারি প্রকল্প পরিচালনায় দীর্ঘদিনের প্রচলিত কাঠামোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।




