চার ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি
- আইএমএফের প্রতিবেদন

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনা থাকলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতা এবং কাঠামোগত সংস্কারের ধীরগতি এখনো প্রধান ঝুঁকি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগের ওপর চাপ— এসব ঝুঁকির পেছনে প্রধান কারণ। গতকাল বুধবার প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক আপডেট-জুলাই ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো ও সুশাসন নিশ্চিত না করলে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বিনিয়োগ পরিবেশ। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং কর-জিডিপি অনুপাত উন্নত করাও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আইএমএফ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা, বিনিময় হারকে আরও বাজারভিত্তিক করা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে গেলে চাপের মুখে পড়তে পারে তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলো। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সৃষ্টি হতে পারে অতিরিক্ত চাপ’— আশঙ্কা আইএমএফের। প্রতিবেদনে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস। সংস্থাটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলেও জানিয়েছে।
প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত থাকা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিলেও এটিকে সন্তোষজনক বলা যায় না। উচ্চপ্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি গতি বাড়াতে হবে কাঠামোগত সংস্কারের। জুলাই আপডেটে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য কমিয়েছে আইএমএফ। এপ্রিলে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হলেও সর্বশেষ আপডেটে তা নামিয়ে আনা হয়েছে ৩ শতাংশে।
আইএমএফের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব। এ পরিস্থিতিতে কার্যকর মুদ্রানীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।




