বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শান্তি দিবস উদযাপন করল জেএমআই

সংগৃহীত ছবি
ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শান্তি দিবস ২০২৬ উদযাপন করেছে জেএমআই গ্রুপ। সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে দিবসের শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেএমআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক।
কার্জন হলের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাব মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানবতার সুখ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জনমত গড়ে তোলা এবং সাম্য ও সম্প্রীতির বিশ্ব নির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় মো. আবদুর রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন, গত ১৭ বছর ধরে জেএমআই গ্রুপ বাংলাদেশে বিশ্ব শান্তি দিবস পালন করে আসছে। নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে শান্তি ও নিরাপত্তার মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিবছর এই আয়োজনে তারা ঐক্যবদ্ধ হন।
তিনি বলেছেন, 'শান্তি শুধু একটি শব্দ নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। যে স্বপ্ন একজন শান্তিকামী মানুষ দেখে, আমি সেই স্বপ্নকেই বাস্তবায়ন করতে চাই আমার কর্মের মাধ্যমে।' তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জেএমআই গ্রুপ মানবতার সেবায় কাজ করে আসছে এবং গত ২৭ বছর ধরে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল শান্তি ও মানবতার পক্ষে।
জেএমআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আরও উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ৪৩টি প্রতিষ্ঠানে নয় হাজারেরও বেশি কর্মী রয়েছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি পর্যায়ে মানবিক মূল্যবোধের প্রসার ঘটাতে হবে। ভবিষ্যতেও মানবতার কল্যাণে কাজ করে দেশ ও বিশ্বকে শান্তির পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. জাবেদ ইকবাল পাঠান বলেছেন, 'জেএমআই পরিবারের প্রতিটি সদস্য জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্যকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। শান্তি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির অধিকার।'
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, শান্তি শুধু যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়, বরং মানবিক অধিকার ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা, ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বৃহত্তর শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম। এতে জেএমআই গ্রুপের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী, আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা জেএমআই গ্রুপ ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন ও বিপণনের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, তুরস্ক ও থাইল্যান্ডের যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে। জাপানের নিপ্রো কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা খাতেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি দেশে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির চাহিদা পূরণে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি ও বাজারজাত করছে জেএমআই।



