১৭.৮৪ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের উদ্বোধন জনতা জুট মিলসে

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি : সংগৃহীত
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জনতা জুট মিলস লিমিটেডে ১৭.৮৪ মেগাওয়াট-পিক ক্ষমতাসম্পন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ৮.৩৬ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস)।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এসব তথ্য।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে জনতা জুট মিলস বিশ্বের প্রথম পাটকল হিসেবে সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর কার্যক্রম পরিচালনার মাইলফলক অর্জন করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রথম কার্বন-নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউর অর্থায়ন সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহায়তা দিয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।
গতকাল ৫ নভেম্বর এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ছাদ, ভূমি ও জলাশয়ে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কারখানার বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ। আরও উপস্থিত ছিলেন কেএফডব্লিউর পরিচালক ড. কার্ক মিল্ডনার, ইডকলের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান মো. এনামুল করিম পাভেল এবং আকিজ বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে বশির উদ্দিন।
প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ১৮ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বছরে আনুমানিক ১৩ হাজার ৯৬০ টন কার্বন নিঃসরণ কমবে।
অনুষ্ঠানে জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তার ভাষ্য, প্রকল্পটি জার্মানি ও বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জার্মানি নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।
ইডকলের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান মো. এনামুল করিম পাভেল বেসরকারি খাতে সৌরবিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে এক হাজার মেগাওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইডকল। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট-পিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। ৫০০ মেগাওয়াট-পিকের বেশি ক্ষমতার প্রকল্প বর্তমানে পাইপলাইনে রয়েছে।
আকিজ বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে বশির উদ্দিন বলেছেন, প্রকল্পটি টেকসই উন্নয়নের প্রতি গ্রুপটির অঙ্গীকার এবং কার্বন-নিরপেক্ষতা অর্জনের প্রতিশ্রুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
তিনি জানান, আকিজ বশির গ্রুপ আরই১০০ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রুপটি তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইডকলের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ১৫৭.৪৪ মেগাওয়াট-পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ১৬টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করেছে আকিজ বশির গ্রুপ।



