বোয়িং থেকে মোট কতটি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান?

বিমান ও বোয়িংয়ের সম্ভাব্য চুক্তির খবরের পোস্টে এমন ছবি দিয়েছিল ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। ছবি: যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরো ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বোয়িংয়ের এই চুক্তি খবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন মাহদী আমিন। বুধবার নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আজ বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের ‘গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি’টি সই হয়েছে।
চুক্তি হবে- এমন খবর আগেই দিয়েছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। তিনি বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য এটি আরেকটি দারুণ অর্জন, যেখানে লাভবান হবে দুই দেশই। আজ নিউ ইয়র্কে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান দেখার অপেক্ষায় আছি।’
জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বহর সম্প্রসারণে এখন বোয়িংয়ের দিকেই ঝুঁকে আছে। গত এপ্রিলি মাসেই বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি হয়। দুই চুক্তি মিলিয়ে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কিতে যাচ্ছে বিমান।
নতুন চুক্তির উড়োজাহাজগুলো কোন মডেলের, কত দাম পড়বে কিংবা কবে আসবে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে আগের ১৪টি কেনায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।
আগের চুক্তির ১৪টির মধ্যে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে আসবে, বাকিগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্ত হবে বিমানের বহরে।
কেন এত বিমান কেনা হচ্ছে?
বিমান বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ নিয়ে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা করছে। তবে চাহিদা মেটাতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন বলে বিমান কর্মকর্তারা মনে করেন।
২০৪১ সালের মধ্যে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৪৭টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণেই নতুন উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলছিলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্যে, ‘বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন সেক্টর সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।’
বোয়িংই কেন?
বিপুল ব্যয়ে বিমান কেনার সমালোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকেই কেন কেনা হচ্ছে, সেই আলোচনাও রয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমানের জন্য ইউরোপের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ঝড় সামলাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর কৌশল নিতে হয়। তাতে অন্তর্বর্তী সরকার বোয়িংয়ের বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রক্রিয়াই এগিয়ে নেওয়া হয়। তার ধারাবাহিকতায় বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি হয়। এখন আরো ১১টি কেনার চুক্তি হলো।
এয়ারবাসের কী প্রস্তাব?
বাংলাদেশ যখন বোয়িংমুখী, তখন এয়ারবাসও তাদের উড়োজাহাজ বিক্রি করতে চাইছে। এজন্য ‘অবিশ্বাস্য অফার’ দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ইইউভুক্ত ২৭ দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসেরও জন্যও ‘সমান সুযোগ’ চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছিলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে, এয়ারবাসের একটি অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে। ঢাকার এটিকে খুব গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিত।’
২০২৩ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ সরকার যে ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাই এগিয়ে নিতে চায় ইইউ।
বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি হলেও এয়ারবাসও বিবেচনায় রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা হতে পারে।







