মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি
চুনী টেক্সটাইল থেকে ২.০৬ কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়

সংগৃহীত ছবি
মিথ্যা ঘোষণায় চীন থেকে অতিরিক্ত পণ্য আমদানির ঘটনায় নরসিংদীর চুনী (বিডি) টেক্সটাইল লিমিটেডের কাছ থেকে ২ কোটি ৬ লাখ টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটি মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে ৯৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করেছিল। ফলে এর সঙ্গে আরও ১ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কুমরাদী এলাকার চীনা নাগরিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চুনী (বিডি) টেক্সটাইল লিমিটেড চীন থেকে ৪০৫ প্যাকেজে ‘ইউজড সেমি সার্কুলার টেরি নিটিং মেশিন উইথ এক্সেসরিজ’ আমদানি করে। পণ্য খালাসের জন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিল মোহাম্মদ সন্স লিমিটেড।
চালানটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পৌঁছানোর পর এআইআর (অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট) শাখা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে চালানটি ‘লক’ করে। পরে কায়িক পরীক্ষা করা হলে আমদানিকারকের ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের পরিমাণে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, আমদানিকারক ঘোষিত ওজনের তুলনায় ৩২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ অতিরিক্ত ৩৮ হাজার ৮২১ কেজি পণ্য আমদানি করেছে। এ ছাড়া চালানের দুটি আইটেমে ৪৯ হাজার ৮২১ কেজি ঘোষণা-বহির্ভূত অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া যায়।
কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, এসব অনিয়মের কারণে চালানটিতে ফাঁকি দেওয়া শুল্ক-কর বাবদ ৫ কোটি ২৪ লাখ ৬৯ হাজার ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এ ঘটনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভুল ও অসত্য ঘোষণার বিষয়টি স্বীকার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে সংক্ষিপ্ত বিচার বা সামারি হিয়ারিংয়ের আবেদন করে। পরে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্য বাজেয়াপ্ত না করে শর্তসাপেক্ষে খালাসের সুযোগ দিতে আরও ১০ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা নির্ধারণ করা হয়। ফলে অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানা মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মো. মাহবুবুর রহমান সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন।
আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানা পরিশোধের পাশাপাশি প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও অন্যান্য ফি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার পর আমদানিকৃত চালানটি খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশনারেটের মুখপাত্র মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আলামিন বলেন, ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের পরিমাণ ও প্রকৃতির বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় চালানটি আটকে দিয়ে কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় অতিরিক্ত ও ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য শনাক্ত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



