টিসিবির সাশ্রয়ী তালিকায় আরও ৭ পণ্য
- কোটি কার্ডধারীর নির্দেশিকা জারি

নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় কমাতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্যতালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরও সাতটি পণ্য। এখন থেকে নিয়মিত বরাদ্দের চাল, ডাল, তেল ও চিনির পাশাপাশি ভর্তুকি মূল্যে টয়লেট সাবান, ডিটারজেন্ট, লন্ড্রি সাবান, লবণ, চা, আটা, মসলা কিনতে পারবেন কার্ডধারী পরিবারগুলো। দেশের প্রায় এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য জারি করা হয়েছে— ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬’। এই নির্দেশিকা জারির মধ্য দিয়ে বাতিল করা হয়েছে আগের সব পরিপত্র।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিটি কার্ডধারী পরিবারের জন্য মাসে দুই লিটার ভোজ্য তেল, দুই কেজি মসুর ডাল এবং এক কেজি চিনি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দসাপেক্ষে প্রতিটি পরিবার ভর্তুকি মূল্যে পঁাচ কেজি করে চাল পাবে। রমজান মাসে নিয়মিত পণ্যের পাশাপাশি সরকারনির্ধারিত পরিমাণ ছোলা এবং খেজুর ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ নির্দেশে পেঁয়াজ, আলুসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যও তালিকায় যুক্ত হতে পারে। তবে সাবান, চা বা আটার মতো ঐচ্ছিক পণ্যগুলো কেনায় কোনোভাবেই বাধ্য করা যাবে না কার্ডধারী ক্রেতাকে।
উপকারভোগীর তালিকায় অগ্রাধিকার পাবেন বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত, অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার এবং শিশু ও প্রতিবন্ধী থাকা দুস্থ পরিবার। এ ছাড়া হতদরিদ্র পরিবার, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চাশ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার শ্রমিক ও উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা এই কার্ড পাবেন। তবে নির্বাচিত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং কোনোভাবেই উপকারভোগী হতে পারবেন না একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি।
সনাতন পদ্ধতির বদলে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে আগের প্রিন্টেড কার্ডের পরিবর্তে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে, পণ্য বিক্রিসহ পুরো প্রক্রিয়াটি ‘টিসিবি সেবা অ্যাপস’-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ডিলারদের জবাবদিহি ও আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নিজ দোকানে টিসিবির কার্ডধারীদের কাছে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির দোকাননামীয় ব্যানার ও পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার স্বার্থে ডিলারদের নিজস্ব দোকানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং পণ্য বিক্রির তথ্য সাধারণ মানুষকে জানাতে মাইকিং করতে হবে। ডিলাররা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর এপিআই (এপিআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তা নিশ্চিত হয়েই কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে পণ্যের বরাদ্দপত্র (ডিও) ইস্যু করা হবে। এসব নিয়মের ব্যত্যয় হলে বাতিল করা হবে ডিলারশিপ।
পণ্য বণ্টন ও উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে ডিলারদের কার্যক্রম তদারকিতে সারা দেশে চার ধরনের মনিটরিং কমিটি এবং তিন ধরনের ট্যাগ টিম কাজ করবে। পাশাপাশি পবিত্র রমজান, ঈদুল আজহা বা সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ ক্রেতাদের কাছেও ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি।
জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান আগামীর সময়কে বললেন, ‘টিসিবির পণ্যে সরকার বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। তাই সোশ্যাল সেফটি নেটের এই সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। তবে অতীতে মনিটরিং টিমের কার্যকর প্রভাব না থাকায়, শুধু টিম গঠন করেই দুর্নীতি রোধ সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সত্যিকারের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নির্বাচন এবং ডিলার নিয়োগ ও কার্ড প্রদানে যাচাই-বাছাই করা।’



