গমে বাড়তি ব্যয় ৬০০ কোটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় চড়া দামে গম আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। খোলাবাজার বা বিকল্প উৎসের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কিনতে টনপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ ডলার বেশি খরচ পড়ছে। ফলে চলতি অর্থবছর আট লাখ টন গম আমদানিতে বাড়তি ব্যয় হতে পারে অন্তত ৫ কোটি ২০ লাখ থেকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬২৪ থেকে ৬৭২ কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্মুক্ত দরপত্রে কম দামে গম কেনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে বেশি দামের মার্কিন গম কিনতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সর্বনিম্ন প্রস্তাবিত দরের সঙ্গেও তুলনা করলে আট লাখ টনে বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় কমপক্ষে ৩২৭ কোটি টাকা।
চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয় ‘ইউএস উইট অ্যাসোসিয়েটস’-এর সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল’। ওই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আট লাখ টন গম কেনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গমের ফ্রি-অন-বোর্ড (এফওবি) মূল্য বর্তমানে টনপ্রতি ২২০ থেকে ২৪০ ডলারের মধ্যে। পরিবহনসহ বাংলাদেশে পৌঁছাতে এর দাম দাঁড়ায় প্রায় ২৭০ থেকে ২৯০ ডলার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক হার্ড রেড উইন্টার গমের দাম টনপ্রতি ২৭০ থেকে ৩১০ ডলারের বেশি। দূরত্বের কারণে চড়া জাহাজভাড়া, বীমা ও দীর্ঘ পরিবহন ব্যয় যোগ হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর মার্কিন গমের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৩৩০ থেকে ৩৬০ ডলার।
সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, রাশিয়া বা কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে গম পৌঁছাতে যেখানে প্রায় ১৫ দিন লাগে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চালান আসতে সময় লাগে প্রায় ৫৫ দিন। ফলে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে মূলত আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জিম্মি হয়ে গেছি। এখানে গমের মূল্য নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন করার সুযোগ নেই; তারা যে দাম নির্ধারণ করে দেবে, বাংলাদেশকে বাধ্য হয়ে সেই দামেই কিনতে হবে।’
তিনি আরও বললেন, ‘এটি কোনো বাণিজ্যিক সুবিধার চুক্তি নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক বোঝা। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রাখাই ছিল এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। এটি একটি দুর্বল দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া চরম অসমান চুক্তি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’



