অনলাইন শপ কোরিয়ান মার্টের ভ্যাট ফাঁকি

সংগৃহীত ছবি
অনলাইনভিত্তিক প্রসাধনী পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান মার্ট বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)। প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার, ল্যাপটপ, নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবস্থা, কুরিয়ার সেবার তথ্য এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক নথিপত্র যাচাই করে এই অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
ভ্যাট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়মবহির্ভূত ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৭ টাকা বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিক্রির বিপরীতে প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ না করায় সরকারের রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলমান।
কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের বিষয়টি নজরে আসে। পরে কমিশনারের নির্দেশনা এবং পল্লবী বিভাগীয় কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে গত ২১ সেপ্টেম্বর কোরিয়ান মার্ট বাংলাদেশে নিবারক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ভ্যাট কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রদর্শিত মূসক-১২.১ পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বিক্রি-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে বিভিন্ন ডিজিটাল এবং লিখিত নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়।
এ সময় প্রতিষ্ঠানের ল্যাপটপ ও কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্য, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহের তথ্য, নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবস্থায় সংরক্ষিত বিক্রি-সংক্রান্ত তথ্য এবং বিভিন্ন দলিল পর্যালোচনা করেন ভ্যাট কর্মকর্তারা। এসব তথ্যের মধ্যে অসংগতি ও ভ্যাট ফাঁকির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।
এরপর বিষয়টি অধিকতর যাচাই ও বিস্তারিত তদন্তের জন্য মূসক-১২.৩ জারি করা হয়। এর আওতায় প্রতিষ্ঠানের ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক দলিলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করে জব্দ করা হয়। পরে এসব তথ্য বিশ্লেষণ ও যাচাই করে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বিক্রি কার্যক্রমের সঙ্গে দাখিল করা তথ্যের অসংগতি শনাক্ত করা হয়।
ভ্যাট বিভাগের যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির জব্দ করা তথ্য ও দলিলে নিয়মবহির্ভূত মোট ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৭ টাকা বিক্রির তথ্য রয়েছে। এসব বিক্রির বিপরীতে প্রযোজ্য ভ্যাট যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ফলে সরকারি রাজস্বের ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে বলে নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কর্তৃপক্ষ।
ভ্যাট কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেন, কুরিয়ার সেবার তথ্য, নিজস্ব সফটওয়্যার ও কম্পিউটারভিত্তিক হিসাব ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত বিক্রির তথ্য যাচাই করা সম্ভব। কোরিয়ান মার্ট বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এসব ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে বিক্রির সঙ্গে প্রদর্শিত হিসাবের অসংগতি শনাক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানালেন, জব্দ করা নথিপত্র ও ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ভ্যাট কর্তৃপক্ষের এই অভিযানকে অনলাইন ব্যবসায়ীদের রাজস্ব পরিপালন যাচাইয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায় বিক্রির তথ্য গোপন বা প্রকৃত বিক্রির তুলনায় কম তথ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে ভ্যাট ফাঁকির সুযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



