দাম কমেছে পটল-শিমের, বেড়েছে টমেটোর
- পটলের দাম কেজিতে কমেছে ৬০ টাকা
- টমেটোর দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা
- কিছু সবজির দাম কমলেও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি

ছবি: ফোকাস বাংলা
বাজারে ঢুকে পটলের দাম শুনে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন সুরুজ মিয়া। গত সপ্তাহে যে পটল কিনতে কেজিতে ১২০ টাকা গুনতে হয়েছিল, এখন তা মিলছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকল না। টমেটোর দোকানে গিয়ে শুনলেন কেজি ১৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। এক হাতে বাজারের ব্যাগ, অন্য হাতে টাকা নিয়ে আবারও হিসাব কষতে হলো তাকে। একটি সবজির দাম কমেছে, অন্যটির বেড়েছে। বাজারের এ বিপরীতমুখী চিত্রেই আটকে আছে সাধারণ ক্রেতার স্বস্তি।
আজ শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার ও কাঁঠালবাগান বাজারের ৯ ও ১৬ অক্টোবরের সংগৃহীত দামের তুলনায় দেখা যায়, এক সপ্তাহে পটল, শিম, করলা ও বরবটির মতো কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। বিপরীতে টমেটোর দাম বেড়েছে। অর্থাৎ সব পণ্যের দাম একই দিকে যাচ্ছে না; বরং পণ্যভেদে দামের বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ফলে কোনো কোনো সবজি কিনে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও পুরো বাজারের খরচে সেই স্বস্তি প্রতিফলিত হচ্ছে না।
গত ৯ অক্টোবর পটল বিক্রি হয়েছিল কেজিপ্রতি ১২০ টাকায়। ১৬ অক্টোবর তা নেমে এসেছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বা প্রায় ৩৩ থেকে ৫০ শতাংশ দাম কমেছে। শিমের দামও গত সপ্তাহের ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা থেকে নেমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় এসেছে। আগের সর্বনিম্ন দামের সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমান সর্বনিম্ন দাম প্রায় ২০ শতাংশ কম। করলা গত সপ্তাহে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি থাকলেও এবার ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বরবটির দামও ৮০ থেকে ১২০ টাকা থেকে নেমে ৭০ টাকায় এসেছে। তবে এসব হিসাব বিভিন্ন বাজারে পাওয়া দামের সীমার তুলনা; একই বাজারে একই মানের পণ্যের গড় মূল্যহ্রাস নয়।
সবজির বাজারে উল্টো চিত্র টমেটোতে। গত সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরের টমেটো এখন ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ১৪.৩ শতাংশ, আর সর্বনিম্ন দামের তুলনায় ৩৩.৩ শতাংশ। কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহে ১২০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার ১৪০ টাকা। ফলে আগের সর্বোচ্চ দরের তুলনায় দাম ৩০ শতাংশ কম, কিন্তু সর্বনিম্ন দরের তুলনায় প্রায় ১৬.৭ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ গত সপ্তাহে বাজারভেদে দামের যে ব্যবধান ছিল, তা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
দাম ওঠানামার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা নতুন শীতকালীন সবজির অপর্যাপ্ত সরবরাহ, আগের মৌসুমের সবজি কমে আসা, বৃষ্টির প্রভাব ও পরিবহন ব্যয়ের কথা বলছেন। নতুন সবজির সরবরাহ বাড়লে পটল-শিমের মতো পণ্যের দাম কমতে পারে। আবার কোনো পণ্যের সরবরাহ সীমিত থাকলে তার দাম উল্টো বাড়তে পারে। তবে টমেটোর দাম বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে উৎপাদন এলাকার সরবরাহ, পাইকারি দর ও পরিবহন খরচের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সবজির বাইরে মাছ-মুরগির বাজারেও বড় ধরনের স্বস্তির প্রমাণ নেই। গত সপ্তাহে রুই মাছ ৩৬০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এবার আকার ও ওজনভেদে দাম ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা। সর্বোচ্চ দরের তুলনায় ব্যবধান প্রায় ৪২.৯ শতাংশ হলেও মাছের আকার ও মান একই কি না, তা নিশ্চিত নয়। ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের ১৯০ টাকা থেকে এবার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ দাম অপরিবর্তিত থাকলেও সর্বনিম্ন দামে প্রায় ৫.৩ শতাংশ পতন হয়েছে। ডিমের বাজারেও কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেলেও সব ধরনের ডিমে একই হারে দাম কমেনি।
মাছ বিক্রেতা আব্দুল ওহাব বলছেন, পাইকারি বাজারে মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। বাজারে শীতকালীন সবজির আগমন বাড়লে পণ্যের দাম আরও কমতে পারে। তবে পরিবহন ব্যয় ও বাড়তি ভাড়ার কারণে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা পর্যায়ে দাম বেশি রাখতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে বাজার করতে আসা সামিউল বলছিলেন, ‘আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনের খরচ বেড়েই চলেছে। এখন খাবারের তালিকায় মাছ-মাংস রাখা অনেকটা বিলাসিতার মতো। কিছু সবজির দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। ব্রয়লার মুরগি, তেলাপিয়া ও পাঙাসের দামও বেশি। এতে সীমিত আয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’



