সংস্কৃতি খাতে হতাশা

দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষরা যখন জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতের জন্য বড় ধরনের বরাদ্দের প্রত্যাশায় ছিলেন, তখন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের জন্য এলো মিশ্র বার্তা। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র ২ কোটি টাকা। তবে একই সঙ্গে সরকার ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ খাতকে সামনে এনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খোলার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮২৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতি খাতে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসা সংস্কৃতিকর্মীরা এ বরাদ্দে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশের সাংস্কৃতিক বিকাশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য আরও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ আগামীর সময়কে বলেছেন, বাজেট বরাদ্দে এবারও সংস্কৃতি খাতকে অবহেলা করা হয়েছে। সংস্কৃতি খাতে মূল বাজেটের অন্তত ১ শতাংশ দাবি অনেক দিনের। তা পূরণ হয়নি। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা কীভাবে সংস্কৃতি খাতে ভূমিকা রাখবে– সেটি স্পষ্ট নয় বলে মনে করছেন মামুনুর রশীদ।
তবে বাজেটের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’। এ খাতের উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটক, প্রকাশনা, কারুশিল্প, নকশা, সফটওয়্যার, ভিডিও গেমসহ নানা সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূল ধারায় যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এ উদ্যোগ।




