গভর্নর
ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে বছরে লাগবে ৬০ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান
ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছরে জাতীয় বাজেট থেকে প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, জানালেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলছিলেন, লুটপাটের কারণে ব্যাংক খাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এ টাকা লাগবে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআরের প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন গভর্নর।
মোস্তাকুর রহমান বললেন, ‘এই পরিমাণ (৬০ হাজার কোটি) টাকা দিয়ে বছরে দুই কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা করা যেত অথবা দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত। যে টাকা লুট হয়েছে, সেটা জনগণের টাকা। আবার এই জনগণকেই সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। লুট করে নিয়ে গেল একজন, এখন জরিমানা দিচ্ছেন আপনি, আমি। এই কথাগুলো এজন্য বলছি যে, আমাদের সমাজে এ নিয়ে সচেতনতা থাকা দরকার।’
অনুষ্ঠানে গভর্নর জানালেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত হওয়া ব্যাংকটিকে (সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক) পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ব্যাংকটি এখন গ্রাহকদের সব ধরনের টাকা তোলার অনুরোধ মেটাতে সক্ষম। ১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকও সব গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করতে পারবে।
তিনি বললেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমরা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নীতি গ্রহণ করেছি। আমরা চাচ্ছি, ব্যাংক ও ঋণখেলাপি নিজেরাই আলোচনা করে বিষয়টি ফয়সালা করে নিক। যদি তারা তা না করে, তবে ২০২৭ সাল থেকে সবাইকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা এ লক্ষ্যে দুটি আইন সংশোধন করছি এবং মানি লন্ডারিং রোধের নিয়মাবলি আরও কঠোর করছি।’
সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আগের লক্ষ্যের চেয়ে ২ লাখ কোটি টাকা বাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, ‘সারা দেশে বাংলা কিউআর পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। দেশে বর্তমানে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে। বাংলা কিউআর পুরোদমে চালু হলে এই অনুপাত ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
সন্দেহজনক লেনদেনে কিউআর কোড ব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে গভর্নর বললেন, এ ধরনের লেনদেন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক খাতের মাধ্যমেও ঘটে। সব কটি মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে।



