পুনঃঅর্থায়ন তহবিল
বন্ধ শিল্প-সেবা খাত চালুতে ২০ হাজার কোটি টাকা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বন্ধ শিল্প ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় এ অর্থায়ন করা হবে। এ তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারবে। তবে ঋণখেলাপি, অর্থপাচার, জাল-জালিয়াতি, ফান্ড ডাইভার্শন বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না।
আজ মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, চলতি মূলধন হিসেবে দেওয়া ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে ব্যাংক। স্কিমের আওতায় ঋণের সুষ্ঠু ব্যবহার করে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গ্রাহকের উৎপাদন বা সেবা দেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে। তা না থাকলে ব্যাংক নিজস্ব তত্ত্বাবধানে যাচাই করে প্রত্যয়ন দিতে পারবে। একই সঙ্গে অর্থপাচার, জাল-জালিয়াতি, ফান্ড ডাইভার্শন বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত নন—এ মর্মে গ্রাহকের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক। এছাড়া লেটার অব অথরাইজেশন, লেটার অব ডেবিট অথরিটি ও লেটার অব কনটিনিউটি জমা দিতে হবে।
সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বা আয়ের প্রতিবেদন নিয়মিত সংগ্রহ এবং প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। আবেদনকারী ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এ পাঠাতে হবে।
এর আগে গত ২৩ মে অর্থনীতিতে গতি ফেরানো, বন্ধ কলকারখানা চালু এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিলের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এর অংশ হিসেবেই ২০ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
এ তহবিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থায়ন করবে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক এ সুবিধা নিতে পারবে। একটি প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবে। ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর, যা প্রয়োজনে নবায়নযোগ্য।
গ্রাহকদের জন্য ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। অর্থাৎ প্রথম ছয় মাস সুদের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। এ অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহে ব্যয় করা যাবে।
শ্রমিকদের বেতন সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পরিশোধ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নগদে বেতন দেওয়া যাবে না। এছাড়া এ ঋণের অর্থ দিয়ে আগের কোনো ঋণের দায় সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না।




