পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে আধুনিকায়ন
২১৪৮ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে ১৭ কোটি ৫ লাখ ডলার বা প্রায় ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন বাংক (এডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আওতায় চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকীকায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎসেবার উন্নয়নেও ব্যয় করা হবে এই টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্গম চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবিকায়ন বৃদ্ধি, অত্যাবশ্যকীয় সেবার উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এ ঋণ ব্যবহার করা যাবে। ‘টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন’ নামের প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ ব্যয় হবে। এর মাধ্যমে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান— এই তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি দুর্গম উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করা
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফং ঝাং বলেছেন, ‘কর্মসংস্থান, উদ্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। এ প্রকল্প চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম সম্প্রদায়গুলোকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করবে, নারীদের অংশগ্রহণকে ত্বরান্বিত করবে এবং একটি টেকসই ও নিম্ন-কার্বন
ভবিষ্যতের দিকে বাংলাদেশের রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
২০৩২ সালের মধ্যে এ প্রকল্পটির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের গ্রিড সুবিধার হার ৬৮ শতাংশে উন্নীত করা এবং সৌর ও পিকু-হাইড্রোপাওয়ারসহ ভবিষ্যতের নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি কমপক্ষে ৩০টি সৌরশক্তিচালিত সুপেয় পানি সরবরাহ সুবিধা স্থাপন করবে, যা স্থানীয় কমিউনিটি সংস্থাগুলো পরিচালনা করবে এবং এর নেতৃত্বপর্যায়ে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিকসহ অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের জন্য সোলার ব্যাকআপ সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
এডিবি জানিয়েছে, প্রকল্পটি সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে; যেখানে অন্তত এক হাজারজনকে জীবিকায়ন প্রশিক্ষণ, ২০০ জনেরও বেশি উদ্যোক্তাকে বিজনেস ইনকিউবেশন সহায়তা এবং ৩০০ শিক্ষার্থীকে জ্বালানি খাতের ক্যারিয়ার ও দুর্যোগ-সহনশীল শক্তি ব্যবস্থাসম্পর্কিত ওরিয়েন্টেশন প্রদান করা হবে। এটি সেবাদান প্রক্রিয়াকে জোরদার করতে তিনটি গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র এবং ডিজিটাল মনিটরিং সুবিধাসহ তিনটি ডে-কেয়ার (শিশু পরিচর্যা) কেন্দ্র স্থাপন করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মচারীদের
এডিবির এই অর্থায়নের পাশাপাশি, এডিবির মাধ্যমে জাপান সরকার কর্তৃক পরিচালিত ‘জাপান ফান্ড ফর প্রসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ থেকে ২ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলারের একটি অনুদান প্রদান করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ৩৬ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), যা প্রয়োগকারী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে-৪৫ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার অবদান রাখবে।



