নতুন পঞ্চবার্ষিক কৌশলপত্র
সংখ্যা নয়, এবার প্রবৃদ্ধি হবে প্রকৃত
- মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা হবে ৫ শতাংশে
- জিডিপির ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে রাজস্ব আদায়
- বিনিয়োগ হবে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ

আগামীর সময় গ্রাফিকস
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চায় সরকার। উচ্চাবিলাসী কোনো লক্ষ্য নয়, বরং বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখেই তৈরি হচ্ছে পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলপত্র। আজ বুধবার এর সঙ্গে যুক্ত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে এসব তথ্য।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ৫ শতাংশ, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সাড়ে ৬ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৭ শতাংশ, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে সাড়ে ৭ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চায় সরকার। শুধু সংখ্যা নয়, এই প্রবৃদ্ধি হবে প্রকৃত। সব শ্রেণির মানুষ যেন সুফল পায় সেদিকে রাখা হবে সর্বোচ্চ নজর।
কৌশলপত্রের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। ‘নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো একেবারেই প্রাথমিক। আমাদের হাতে সময় আছে আগামী দুই মাস। এর মধ্যে হবে আরও বৈঠক। বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, সরকারের নীতিনির্ধারকসহ বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত করা হবে খসড়াটি। সেক্ষেত্রে এ মুহূর্তে সবকিছু ফাঁস না করাই ভালো।’ আগামীর সময়কে জানালেন বিভাগটির সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন।
মূল্যস্ফীতি
কৌশলপত্রের খসড়ায় পর্যায়ক্রমে নেওয়া হয়েছে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরার পরিকল্পনা। বলা হয়েছে, বর্তমানে ৮ শতাংশ থেকে আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০২৭-২৮-এ সাড়ে ৬ শতাংশ, ২০২৮-২৯-এ গিয়ে সেটি কমে হবে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কৌশলপত্রের শেষ সময়ে গিয়ে মূল্যফীতি সহনীয় পর্যায়ে এসে হবে ৫ শতাংশ।
বিনিয়োগ
বিনিয়োগ নির্ভর প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করতে চায় সরকার। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কৌশলপত্রে ব্যাপক গুরুত্ব পাবে পরিবেশগত উন্নয়ন।
মোট বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হতে পারে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। যদিও আশা করা হচ্ছে বর্তমান অর্থবছরে সেটি হবে ৩০ শতাংশ। এছাড়া আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে গিয়ে সেটি বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬ শতাংশে।
রাজস্ব আদায়
নতুন কৌশলপত্রে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর দেওয়া হচ্ছে জোর। এক্ষেত্রে জিডিপির লক্ষ্য ১০ শতাংশ করার পরিকল্পনা কৌশলপত্রের শেষ অর্থবছরে। পর্যায়ক্রমে চলতি এবং আগামী অর্থবছর ৮ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৯ শতাংশ এবং ২০২৮-২৮ অর্থবছরে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
নতুন কৌশলপত্র নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. আশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ‘অতীতের বয়ান ও লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে ছিল না বাস্তবের কোনো সংগতি। মানুষকে ভাসানো হয়েছিল অপস্বপ্নের সাগরে। যার কোনো মিল ছিল না বাস্তবতার সঙ্গে। কিন্তু আমরা সেটি করতে চাই না। এ সরকার চায় বাস্তবভিত্তিক এবং জনগণের প্রকৃত চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা। আমরা বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে নির্ধারণ করতে চাই ভবিষ্যৎ। সংকটকে সম্ভাবনায় পরিণত করে এগিয়ে নিতে চাই দেশ। বিএনপি যখনই সরকারে এসেছে, তখনই জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দুই শতাংশীয় পয়েন্ট। এটি পরীক্ষিত সত্য।’

