খরচে হোঁচট স্বাস্থ্য খাতে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চলতি অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ বাজেট বেড়েছে স্বাস্থ্য খাতে। কিন্তু টাকা খরচ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অতীত তথ্য বলছে, আগে যা বরাদ্দ ছিল, সেটিই ঠিকমতো খরচ হয়নি। খুব খারাপ অবস্থা রয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে। এর নেপথ্যে ১০টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এর মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ের সাতটি এবং প্রকল্প শেষের তিনটি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে সংস্থাটি। সম্প্রতি এসব তথ্য জানিয়েছে আইএমইডি। এদিকে অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা হলো, স্বাস্থ্য খাতে সাধারণত প্রকল্প পরিচালক দেওয়া হয় চিকিৎসকদের। কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে তেমন অভিজ্ঞতা থাকে না। ফলে প্রকল্পের টাকা খরচ ঠিকমতো করতে পারেন না। আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন তাদের বলেছি বরাদ্দ নাও। কিন্তু দক্ষতার অভাবে তারা বরাদ্দ নিতেও পারে না, খরচও করতে জানে না। এখানে দক্ষ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা রয়েছে— এমন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে। অন্য আরও চিহ্নিত সমস্যার সমাধান করতে হবে।
সূত্র জানায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯,৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই রেকর্ড বরাদ্দ দেশের মোট জিডিপির ১.০১ শতাংশ। প্রথমবারের মতো জিডিপির ১ শতাংশের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ৩৫,৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০. ৫৮ শতাংশ।
আইএমইডির চিহ্নিত বাস্তবায়ন পর্যায়ে সাত চ্যালেঞ্জ হলো— পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ না দেওয়া, বাস্তবায়নের জন্য সার্বিক কোনো কর্মপরিকল্পনা না থাকা, বাস্তবায়ন মেয়াদ বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রকল্প পরিচালক বদলি করা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণে সময়মতো উদ্যোগ গ্রহণের অভাব এবং সময়ক্ষেপণ, মাসিক তথ্য নির্ধারিত সময়ে আপডেট করতে পিডির গাফিলতি এবং বাস্তবায়নের সময় স্টিয়ারিং কমিটি ও পিআইসি কমিটির সভা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত না হওয়া। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তিন চ্যালেঞ্জ হলো— পরিচালনা করার জন্য রাজস্ব বাজেটস্বল্পতা, সমাপ্ত প্রকল্পের ইন্টারনাল ও এক্সটার্নাল অডিট দ্রুত না করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হওয়ার সাড়ে তিন মাসের মধ্যে প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন আইএমইডিতে না পাঠানো।
আইএমইডি বলেছে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্প ছিল ৪৭টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৪৫ এবং কারিগরি সহায়তা ছিল দুটি। বরাদ্দ ছিল ৪,৭৩৭ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৮টির অনুকূলে বরাদ্দ ৩,১১৬.৮৮ কোটি, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের ১৪ প্রকল্পের অনুকূলে ১,৩৪৬.১৪ কোটি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছয় প্রকল্পে ৪২.২৯ কোটি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চারটির অনুকূলে ২৯ কোটি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটির অনুকূলে ৫৮.৭২ কোটি টাকা।
এদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে গত মে মাস পর্যন্ত অর্থবছরের ১১ মাসে খরচ হয়েছে ৮০৯.২৪ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৫.৮৭ শতাংশ।




