সবজির দাম চড়া, মাছ বাজার কড়া
- বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে
- মাছের বাজারেও খুব বেশি পরিবর্তন নেই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় বদলে যাচ্ছে ক্রেতাদের কেনাকাটার ধরন। আগে যে পরিমাণ সবজি, মাছ-মাংস বা মুদি পণ্য কিনতেন, এখন একই বাজেটে তার চেয়ে কম পণ্য কিনছেন অনেকে। প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা ছোট করে, কোনোটি বাদ দিয়ে অথবা পরিমাণ কমিয়ে বাজার সামলানোর চেষ্টা করছেন সীমিত ও মধ্যম আয়ের মানুষ। ফলে বাজারে ক্রেতা থাকলেও আগের তুলনায় অনেকের হাতে ফিরছে ছোট ব্যাগ। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার এবং চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন ও কাজীর দেউড়ি বাজারে দেখা গেছে এ চিত্র।
রাজধানীর বাজারে সবজির দাম এখনো চড়া। শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। বিপরীতে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ৩০ টাকা কেজিতে। তবে পেঁপে বাদ দিলে অধিকাংশ সবজির দাম ৭০ টাকার ওপরে। রাজধানীর বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটোল, কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। লম্বা বেগুন ১০০, গোল বেগুন ১২০ এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। বরবটি, ঝিঙে ও করলা ৮০, কচুরমুখী ৮০ এবং লাউ আকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
শসা তুলনামূলক কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি পাওয়া গেলেও দেশি জাতের শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত ওঠা কাঁচা মরিচ সরবরাহ বাড়ায় এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কয়েক সপ্তাহ আগের সর্বোচ্চ দরের তুলনায় কেজিতে কমেছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা।
বাজার করতে এসে রাশেদা বেগম বললেন, ‘বেগুন ১০০ টাকা, করলা ৮০, ছোট লাউ ৫০ আর এক পোয়া মরিচ ৪০ টাকা দিয়ে কিনেছি। সব কিছুর দাম বেশি। সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
মাছের বাজারেও খুব বেশি পরিবর্তন নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০, ট্যাংরা ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ এবং বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম পরিস্থিতি: চট্টগ্রামের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শিমের দাম। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, গত সপ্তাহে ১৭০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শিম এখন ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। টমেটোর দামও প্রায় ২০ টাকা বেড়ে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে উঠেছে। গত সপ্তাহে এ সবজিটি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।
বর্তমানে গাজর বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০, বরবটি ৬০ থেকে ৭০, বেগুন ৮০ থেকে ১০০, ফুলকপি ৬০, বাঁধাকপি ৮০, ঝিঙে ৮০ থেকে ৯০ এবং করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। এসব পণ্যের অধিকাংশের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বড় পরিবর্তন না হলেও উচ্চমূল্য থেকে নামেনি।
চট্টগ্রামের বাজারেও মাছের দাম খুব একটা বদলায়নি। সেখানে রুই-কাতলা আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৩০, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৫০, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, লইট্টা ২০০ থেকে ২৫০ এবং কোরাল ৬৫০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাইম ৬০০ থেকে ৮০০, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ এবং ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি।
মাছ বিক্রেতা সুলতান আহমদ বলেছেন, ‘মাছের দাম আগের মতোই আছে। এখন এক দাম, বিকালে আরেক দাম। বাজারভেদেও ১০ থেকে ২০ টাকা কম-বেশি হতে পারে।’
ক্রেতা জসিমউদ্দিন বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনীয় সব পণ্য কেনা যাচ্ছে না। এক-দুই কেজি করে কিনলেও মোট খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।’
ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। মুরগি বিক্রেতা আবুল কালাম বললেন, ‘আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। পোলট্রি খামারিদের কাছ থেকে যে দামে কিনি, তার সঙ্গে পরিবহন ও দোকানের খরচ যোগ করে বিক্রি করতে হয়। আগের দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে।’
খাতুনগঞ্জের আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিন বলেছেন, ‘আমদানি পর্যায়ে পণ্যের দাম, জাহাজীকরণ, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের ভেতরে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। এসব ব্যয় যোগ হয়ে পাইকারি বাজারে চাপ তৈরি করছে। তবে কোনো কোনো পণ্যে পাইকারি দর কমতেও শুরু করেছে।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেছেন, ‘পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত প্রকৃত ক্রয়মূল্য, পরিবহন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্য যাচাই করা প্রয়োজন। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও খুচরা পর্যায়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলে তার কারণ খুঁজে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেছেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থে বাজারে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চলছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



