নাগরিক প্ল্যাটফর্মের বৈঠক
তথ্য হালনাগাদ করে বাজেট পুনর্বিবেচনার আহ্বান

সংগৃহীত ছবি
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা, বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইন অডিটরিয়ামে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে’ শীর্ষক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’ আয়োজিত বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
মূল প্রবন্ধে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘শুধু বাজেট ঘোষণা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। এর বাস্তবায়নে জনগণের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক নজরদারি ও চাপ প্রয়োজন।’
তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটের অধিকাংশ প্রাক্কলন সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়নি। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের তথ্যের ওপর নির্ভর করে মধ্যমেয়াদি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তাই আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে বাজেটের সব লক্ষ্যমাত্রা ও প্রাক্কলন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।
২০০৯ সালের আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পরপর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সংসদে বিবৃতি দেওয়ার প্রথা পুনরায় চালুর দাবি জানান ড. দেবপ্রিয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অর্থমন্ত্রী সংসদে প্রথম অর্থনৈতিক বিবৃতি উপস্থাপন করবেন।
বৈঠকে পথশিশু ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের বাজেট প্রসঙ্গে ‘এডুকো বাংলাদেশ’-এর হেড অব প্রোগ্রাম তাজিন হোসেন বলেছেন, ‘এখনো অনেক শিশু স্কুলের গণ্ডিতে ঢুকতে পারেনি। তারা কেন স্কুলে ভর্তি হচ্ছে না, আগে সেই কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে। এরপর তাদের উপযোগী করে নমনীয় (ফ্লেক্সিবল) শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।’
শিক্ষার মান প্রসঙ্গে মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান বলেছেন, ‘শিক্ষার মান উন্নত করতে না পারলে শুধু স্কুল ভবন তৈরি করে কোনো লাভ হবে না। বাজেটে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।’
এতে ব্যাংক এবং জ্বালানি খাতের সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এজাজ হোসাইন। বলেছেন, ‘এই দুটি খাত আগে ঠিক না করলে কোনো খাতই ঠিকভাবে চলবে না। এনার্জি খাতের জন্য আসলে বাজেট লাগে না। ঠিকমতো পরিচালনা করলে এরা নিজেরাই মুনাফা করতে পারে, প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারে। কিন্তু এ খাতে ভূত ঢুকে গেছে। বাজেট পর্যালোচনায় এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।’
প্রস্তাবিত বাজেটে হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বরাদ্দকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি রামিসা চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে আনসার, পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশে হিজড়া জনগোষ্ঠীর নিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে।’ পাশাপাশি, হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য করছাড় সুবিধা কার্যকর রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান এবং কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া।





