রেমিট্যান্স যোদ্ধার গল্প
উন্নতির দিকে যাচ্ছে শ্রমবাজার পরিস্থিতি

সংগৃহীত ছবি
একসময় চোখের সামনে ছিল শুধুই অনিশ্চয়তা আর দেশে ফেলে আসা পরিবারের চিন্তায় বিনিদ্র রজনী। বিশেষ করে অতিরিক্ত কর্মীর ভিড়ে যখন মালয়েশিয়ায় কাজ জোটা কঠিন হয়ে পড়েছিল, তখন অনেকেই পার করেছেন মানবেতর জীবন। সেই ঘোর অমানিশা কাটিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ১১ বছর ধরে দেশটিতে কর্মরত প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা শাহীন আলম। দীর্ঘদিনের সাময়িক সংকট আর অনিশ্চয়তা পেরিয়ে শাহীনের মতো লাখো প্রবাসীর জীবনে এখন বইতে শুরু করেছে স্বস্তির হাওয়া। অবৈধ কর্মীদের নিয়মিতকরণ, ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন এবং আটকে পড়া কর্মীদের দ্রুত কাজে ফেরানোর নানামুখী উদ্যোগে তাদের চোখেমুখে এখন উঁকি দিচ্ছে নতুন আশার আলো।
শ্রমবাজারের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজের স্বস্তির কথা আবেগভরে জানিয়েছেন শাহীন আলম। অতীতের কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বললেন, ‘মাঝখানে নতুন লোক আসার কারণে কাজের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল। আমাদের পরিচিত অনেকেই তখন দিনের পর দিন কাজ না পেয়ে খুব কষ্টে দিন পার করেছে।’
তবে সেই দুঃসময় এখন অনেকটাই কেটে গেছে। বর্তমানের প্রাপ্তিতে আনন্দিত কণ্ঠে তিনি বললেন, ‘বর্তমান কর্মস্থলে কাজের পরিবেশ খুবই ভালো এবং সময়মতো বেতন পাচ্ছি। দেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কখনো কোনো আইনি বা প্রশাসনিক সমস্যায় পড়তে হয়নি। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।’
বর্তমান কর্মস্থলে কাজের পরিবেশ ভালো এবং সময়মতো বেতন পাচ্ছি। দেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি
শাহীন আলম
মালয়েশিয়া প্রবাসী
রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি নানা সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বললেন, ‘আমরা প্রবাসীরা সবসময় বৈধভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমেই দেশে টাকা পাঠাই। সরকার যে আড়াই শতাংশ রেমিট্যান্স প্রণোদনা দিচ্ছে, সেটি আমরা নিয়মিত পাচ্ছি। প্রবাসে এত কষ্টের পর এই সুবিধাটুকু আমাদের জন্য অনেক বড় আর্থিক সহায়তা ও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।’
শ্রমবাজারের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণেরও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে এই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।
হালাল অর্থনীতি, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি এবং উদীয়মান শিল্পে যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। শাহীন আলমের মতো কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের এই ধারাবাহিক উন্নতি বজায় থাকলে এবং আগামীতে আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো গেলে, প্রবাসীদের রক্তঘামে অর্জিত এই রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য বয়ে আনবে দীর্ঘমেয়াদি সুফল।







