সাক্ষাৎকার
কাঁচামালে কর কমালে সাশ্রয়ী হবে আসবাবপত্র

শেখ আব্দুল আউয়াল
দেশীয় আসবাবশিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ কর কমানো হলে ক্রেতাদের সাশ্রয়ী দামে আসবাব দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আউয়াল। তার মতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যাংকঋণ পেতে সমস্যা এবং করের চাপের কারণে এ খাতের ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জে রয়েছেন। এসব বিষয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি মো. আহসানুজ্জামান
আগামীর সময়: ২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার মূল উদ্দেশ্য কী?
শেখ আব্দুল আউয়াল: সারা দেশের ক্রেতাদের এক জায়গায় এনে দেশীয় আসবাবের নকশা, মান ও বৈচিত্র্য তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য। বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির ২, ৩ ও ৪ নম্বর হলে আয়োজিত এবারের মেলায় ৪৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। তিনটি হলে রয়েছে ৩২৩টি স্টল। এখানে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি আধুনিক আসবাব প্রদর্শন করা হবে।
আগামীর সময়: মেলায় বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা কত?
শেখ আব্দুল আউয়াল: রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বলা কঠিন। ব্যাংকঋণ পেতেও অনেক ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়ছেন। তবে বছরে একবার এ মেলার আয়োজন হয়। ক্রেতারা এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য তুলনা করে কেনার সুযোগ পান। আশা করছি, মেলার মাধ্যমে বিক্রি বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।
আগামীর সময়: আসবাবশিল্পের প্রধান সমস্যাগুলো কী?
শেখ আব্দুল আউয়াল: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং কর-ভ্যাটের বোঝা ব্যবসাকে কঠিন করে তুলেছে। নিয়ম অনুযায়ী কর দেওয়া প্রয়োজন, আমরাও তা দিচ্ছি। কিন্তু কাঁচামালের ওপর উচ্চ আমদানি কর উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ কর কমানো হলে কম খরচে আসবাব তৈরি করা সম্ভব হবে। তাতে ক্রেতারাও সাশ্রয়ী দামে পণ্য কিনতে পারবেন।
আগামীর সময়: বিদেশি আসবাবের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় শিল্প কতটা এগিয়েছে?
শেখ আব্দুল আউয়াল: দেশীয় আসবাবশিল্প অনেক এগিয়েছে। এখন আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক নকশা ও উন্নত মানের আসবাব তৈরি করছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি আসবাব আমদানির প্রয়োজন কমেছে। আমরা চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চাই। তবে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হয়। এসব উপকরণের ওপর কর বেশি থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
দেশীয় আসবাবের আরেকটি সুবিধা হলো, ক্রেতারা প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে ওয়ারেন্টি, গ্যারান্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা পান। পণ্য কেনার পর সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান পাওয়া সম্ভব। এতে ক্রেতারা যেমন সুবিধা পান, তেমনি দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানও এগিয়ে যায়।
আগামীর সময়: কাঁচামালের কর কমানোর দাবিটি বিস্তারিত বলবেন?
শেখ আব্দুল আউয়াল: বিশেষ করে ফেব্রিকস ও বিভিন্ন হার্ডওয়্যার আমদানিতে করের চাপ বেশি। আমাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে ফেব্রিকস আমদানিতে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। আমরা সরকারের কাছে এসব উপকরণের আমদানি কর কমানোর দাবি জানাচ্ছি। কর কমলে উৎপাদন খরচ কমবে, দেশীয় বাজারে পণ্যের দাম সাশ্রয়ী এবং বিদেশি বাজারেও প্রতিযোগিতা সহজ হবে।
আগামীর সময়: এ খাতে কর্মসংস্থান ও রপ্তানির সম্ভাবনা কেমন?
শেখ আব্দুল আউয়াল: আমাদের হিসাবে, দেশের আসবাবশিল্পে ২৫-৩০ লাখ মানুষ কাজ করে। এ খাতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বিদেশে আসবাব রপ্তানি করছে। আমরা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সঙ্গে কাজ করছি। আগামী ১৪ ও ১৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে বিদেশি ক্রেতাদের সামনে দেশীয় আসবাব তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের আয়োজন রপ্তানির নতুন বাজার তৈরিতে সহায়ক হবে।
আগামীর সময়: নতুন বড় প্রতিষ্ঠান আসায় শিল্পে কী প্রভাব পড়বে?
শেখ আব্দুল আউয়াল: ওয়ালটন গ্রুপের ম্যাজিস্ট্রো ব্র্যান্ডসহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আসবাবশিল্পে যুক্ত হচ্ছে। এটি ইতিবাচক। নতুন উদ্যোক্তা এলে প্রতিযোগিতা বাড়বে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং পণ্যের মান উন্নত হবে। এতে শিল্প আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আগামীর সময়: এবারের মেলায় ক্রেতাদের জন্য কী সুবিধা থাকছে?
শেখ আব্দুল আউয়াল: ২৭ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলা মেলায় প্রবেশ বিনামূল্যে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় থাকবে। উদ্বোধনী দিনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিজয়ীদের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকার পুরস্কার রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের মেলায় এসে দেশীয় আসবাবের মান, নকশা ও বৈচিত্র্য দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তাদের অংশগ্রহণ দেশীয় শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



