চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী
বন্যার পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত

ছবি: আগামীর সময়
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যার পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি। বন্যায় এখন পর্যন্ত পাহাড়ধসে দুজন, পানি ডুবে দুজন ও নৌকা ডুবে একজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চিরিংগা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৮ মিটার। বিকাল ৪টায় সেখানে পানির উচ্চতা মাপা হয় ৬ দশমিক ২১ মিটার। নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে গতকালের তুলনায় নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার কমেছে।
চকরিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, পেকুয়ার সাতটি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা এবং মাতামুহুরী সাতটি ইউনিয়নে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে তিন উপজেলার গ্রামীণ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পোহাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদি পশু নিয়ে মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে নিম্নাঞ্চলে ৭ থেকে ৮ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। চকরিয়া ও পেকুয়ায় বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে বন্যার পানি। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
সূত্র জানায়, বন্যার প্রভাবে মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে মাতামুহুরী উপজেলা পূর্ব বড়ভেওলা, কোনাখালীর তিনটি ও পেকুয়া মেহেরনামায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এটি ছাড়া চকরিয়া পৌরসভার দিগরপানখালী, কোচপাড়া, মজিদিয়া মাদ্রাসা, ভেওলা মানিকচরের অসংখ্য স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানালেন, এখন পর্যন্ত চকরিয়া উপজেলায় পাহাড়ধসে দুজন, বন্যার পানিতে ডুবে দুজন ও নৌকা ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো বন্যা পরিস্থিত অপরিবর্তিত রয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বন্যার পানি নামছে না, তবে বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যাবে। বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো বালুর বস্তা দেওয়া হয়েছে।





