বাঁশখালীতে বানের পানিতে ডুবে আরও এক শিশুর মৃত্যু

ছবি: আগামীর সময়
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও বানের পানির স্রোতে ডুবে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। আজ শুক্রবার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলায় পৃথক ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ বিকালে উপজেলার সরল ইউনিয়নে বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পা পিছলে পড়ে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রায় ৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুর নাম মোছাম্মৎ তাহিন নুর (১২)। সে সরল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম জালিয়াঘাটা এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন জানায়, আজ সকাল ১০টার দিকে তাহিন নুর জালিয়াঘাটা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে থাকা একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় পানির স্রোতে হঠাৎ পা পিছলে সে খাদে পড়ে তলিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে ফায়ার স্টেশনে খবর দেওয়া হলে স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বিকাল থেকে টানা অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাহিন নুরের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঁশখালী ফায়ার স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান বললেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’
তাহিন নুরের মৃত্যুর আগে আজ দুপুরে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বানের পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহারছড়ার ইলশা গ্রামের ওমানপ্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. আশিক (১১) আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়।
একই ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামে অন্য শিশুদের সঙ্গে বন্যার পানি দেখতে গিয়ে স্রোতের তোড়ে ভেসে যায় উনদুনী বর বাড়ির মো. আনোয়ারের ৫ বছর বয়সী ছেলে মো. মিরাজ। পরে স্থানীয়রা মিরাজের মরদেহ উদ্ধার করে।




