নোয়াখালীতে চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের বিক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হোসাফ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেডের দুই প্রকৌশলীসহ ছয় কর্মকর্তাকে আকস্মিক চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে প্রায় আধা ঘণ্টা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার মীর ওয়ারিশপুর এলাকায় এই বিক্ষোভ করেন তারা। মহাসড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুপুরের পর থেকেই প্ল্যান্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে। একপর্যায়ে সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।
আন্দোলনরত কর্মচারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা অনিয়মিতভাবে দেওয়া হচ্ছে তাদের। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে। মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন অনেকে। সময়মতো দেওয়া হয়নি ঈদ বোনাসও।
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানালেন, গতকাল সকালে তারা প্ল্যান্টের গেটে এলে জানতে পারেন, কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই দুই প্রকৌশলীসহ ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি প্ল্যান্ট ইনচার্জও। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন এবং পালন করছেন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি।
তারা জানান, বেতন-ভাতা নিয়মিতকরণসহ অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতদের পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে না দিলে প্ল্যান্ট শাটডাউনসহ বড় ধরনের কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে। তাদের দাবি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধমূলকভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাই শুরু করেছে।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে শিফট ইঞ্জিনিয়ার মাজহারুল ইসলাম রিজভী বলেছেন, ‘সকালে প্ল্যান্টে এসে গেট দিয়ে ঢুকতেই আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতির চিঠি দেন দারোয়ান। অথচ এর আগে আমাকে দেওয়া হয়নি কোনো নোটিশ।’
কর্মচারীরা আরও জানান, নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে চিকিৎসার অভাবে সম্প্রতি প্ল্যান্টের এক কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা ওই কর্মচারীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানান।
প্ল্যান্ট ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসাইন বলেছেন, ‘ঢাকা অফিস থেকে ছয়জন কর্মীর অব্যাহতিপত্র পাঠানো হয়েছে। আমি শুধু চিঠিগুলো পৌঁছে দিয়েছি সংশ্লিষ্টদের কাছে।’ তারা যে বিক্ষোভ করেছেন, এটিও তিনি ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের জানিয়েছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে পুলিশ। পরে সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।




