টাকার বিরোধ মেটাতে সালিশ, সংঘর্ষ গড়াল দুই দিনে

সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় টাকার বিরোধ মেটাতে ডাকা সালিশে দুপক্ষের মধ্যে হয়েছে দফায় দফায় সংঘর্ষ। দুই দিন ধরে চলা সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। এর মধ্যে আছেন জগদীশপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত চলেছে দফায় দফায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেটও ছুড়েছে। উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের খরখি গ্রামে এলাকায় এখন মোতায়েন অতিরিক্ত পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খরখি গ্রামের আহম্মদ মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের তোফাজ্জুল মিয়ার টাকা নিয়ে বিরোধ ঈদের সময় থেকে। তা মেটাতে মঙ্গলবার বিকালে একটি সালিশ ডাকা হয় এলাকায়। বৈঠক চলাকালে দুপক্ষের মধ্যে তর্কের পর শুরু হয় সংঘর্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। রাতভর চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।
জগদীশপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম জানিয়েছেন, আহম্মদ মিয়ার ঢাকায় একটি ফার্নিচারের দোকান আছে। সেখানে কাজ করতেন তোফাজ্জুল মিয়া। ঈদের আগে আহম্মদ মিয়ার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তোফাজ্জুলের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ঢাকায় সালিশ হলেও বিরোধ মেটেনি। ঈদের পর টাকা দাবি করতে গেলে আহম্মদ মিয়ার ভাতিজা শরীফ মিয়াকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর জেরেই মঙ্গলবারের সালিশ ডাকা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষের পর বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবারও দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এসব।
জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন কাজ করছে।
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, টাকাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
দুপুরে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।




