নোমানী ময়দানে শহীদ মিনার, ক্ষতি হবে না: সংস্কৃতিমন্ত্রী

নোমানী ময়দানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণস্থলে ফলক উদ্বোধন অনুষ্ঠান। ছবি: আগামীর সময়
মাগুরার ঐতিহাসিক নোমানী ময়দানের এক পাশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলেও খেলার মাঠ ও ঈদগাহের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি জানান, এক পাশে শহীদ মিনার নির্মাণ হলেও সেখানে ঈদের নামাজ ও নিয়মিত খেলাধুলা স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নোমানী ময়দানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণস্থলে ফলক উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেছেন, ঈদের নামাজ একটি ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসব। নোমানী ময়দানে নিয়মিত ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এর সঙ্গে শহীদ মিনার নির্মাণের কোনো সম্পর্ক নেই। শহীদ মিনার নির্মাণের কারণে যেন খেলাধুলার কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও তিনি আগেই নির্দেশনা দিয়েছেন।
নিতাই রায় চৌধুরী আরও বললেন, নোমানী ময়দান শুধু ঈদগাহ নয়। এর সঙ্গে মাগুরার মানুষের অনেক ঐতিহাসিক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এখানে বড় রাজনৈতিক সভা, ঐতিহাসিক সমাবেশ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড হয়েছে। তাই ময়দানের কোনো ক্ষতি হবে না। শহীদ মিনার জাতীয় সংস্কৃতি, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার চেতনার অংশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নোমানী ময়দান রক্ষার দাবিতে মাগুরা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা। মানববন্ধনে বক্তারা ময়দানের একাংশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদ জানান।
বক্তারা বলেছেন, নোমানী ময়দান মাগুরার অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহাসিক খেলার মাঠ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে খেলাধুলার পাশাপাশি ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন, রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড হয়ে আসছে। ময়দানের পরিসর কমে গেলে এসব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।



