বিরামপুর
দুই বছর ধরে ঝুঁকিতে কালভার্ট, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের বিরামপুরের সীমান্তঘেঁষা পাঠানচড়া এলাকার একটি কালভার্ট দুই বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে দুর্ভোগ ও আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কালভার্টটির মাঝখানে বড় ধরনের গর্ত তৈরি হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, উপজেলার পাঠানচড়া বাজারের পূর্ব পাশে ২ নম্বর কাটলা ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে জোতবানী ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো পাঠানচড়া কালভার্ট। এর নিচ দিয়ে একটি খাঁড়ি প্রবাহিত হয়ে ভারত সীমান্তের দিকে চলে গেছে। কাটলাবাজার ও পাঠানচড়া বাজারকে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ পাকাসড়কের মাঝখানে অবস্থিত এ কালভার্টটি প্রায় ২৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মাণ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই বছর আগে কালভার্টটির মাঝামাঝি অংশে বড় ধরনের গর্ত তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দিনের বেলায় পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করলেও রাতের অন্ধকারে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ভ্যান ও ছোট যানবাহনের চালকদের জন্য এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টটির কাছেই রয়েছে বিশাল সাগরদীঘি এবং ভারত সীমান্তসংলগ্ন ভাঙাদীঘি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এ পথে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী কয়েক হাজার মানুষ বিরামপুর উপজেলা শহর, কাটলা বাজার ও আশপাশের এলাকায় যেতে এই সড়ক ব্যবহার করেন।
পাঠানচড়া বাজারের দক্ষিণে খিয়ারমামুদপুর, পশ্চিমে কসবাসাগরপুর এবং উত্তরে ভাইগড় এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিপণ্য পরিবহন ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে। কয়েক মাস আগে সাগরদীঘি এলাকার আফজাল হোসেনের স্ত্রী কালভার্ট পার হওয়ার সময় গর্তে পড়ে নিচের পানিতে পড়ে যান। এ ছাড়া রাস্তায় খেলাধুলার সময় শিশুরাও প্রায়ই সেখানে হোঁচট খেয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
এদিকে দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক।





