দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে, প্রাণ গেল হাম উপসর্গে

ছবি: আগামীর সময়
দগ্ধ দেড় বছর বয়সী খাদিজা আক্তারকে গত ২ মে ভর্তি করা হয় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওইদিনই তাকে পাঠানো হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর গত ২৯ মে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে শিশুটি। তবে পরদিনই তার শরীরে হামের উপসর্গ র্যাশ দেখা দেয়। পরে আবারও তাকে ভর্তি হয় ওসমানী মেডিকেলে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জুন মৃত্যু হয় শিশুটির।
একই সময়ে হবিগঞ্জে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেছে আরও এক শিশুর। জেলায় এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়ে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, মারা যাওয়া সব শিশুই হামে আক্রান্ত হয়েছিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
সবশেষ মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন মাধবপুর উপজেলার শাহপুর হরিতলা গ্রামের দিনমজুর সোহাগ মিয়ার দেড় বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা আক্তার। অন্যজন বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকার সোহেল মিয়ার দেড় বছর বয়সী ছেলে আবুল খায়ের।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসানেআগামীর সময়কে জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জন্মের পর খাদিজা হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা পায়নি। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় সে হামে আক্রান্ত হয়।
‘পরে দগ্ধতা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও পরদিন তার সারা শরীরে র্যাশ দেখা দেয়। পুনরায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, জ্বর নিয়ে আবুল খায়েরকে ভর্তি করা হয় হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে। পরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।
‘সেখান থেকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে আবারও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’
এর আগে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নবীগঞ্জ উপজেলার কানাইপুর গ্রামের শহিদুর রহমানের আট মাস বয়সী ছেলে রায়হান। হোসেনপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে রাইসা, লাখাই উপজেলার বলাকান্দি গ্রামের নির্মল দাশের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে বন্ধন এবং বাহুবল উপজেলার বশিনা গ্রামের মিজানুর রহমানের নয় মাস বয়সী ছেলে একরামুল।
মারা যাওয়া ছয় শিশুর মধ্যে নবীগঞ্জ উপজেলার তিনজন এবং বাহুবল, মাধবপুর ও একজন করে রয়েছে লাখাই উপজেলার।
নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ আগামীর সময়কে বলেছেন, সবার আগে মারা যায় আট মাস বয়সী রায়হান। ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ১৮ এপ্রিল তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসক ভর্তি দিলেও উন্নত চিকিৎসার আশায় পরিবার তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে নিউমোনিয়া শনাক্ত হয়। কয়েকদিন চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে সিলেটে নেওয়া হয়।
‘পরে চিকিৎসকেরা জানান, প্রথমে তার নিউমোনিয়া ছিল, এরপর হামের উপসর্গ দেখা দেয়। গত ৪ মে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।’
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৫৭ জন রোগীর মধ্যে ৪০২ জনের নমুনা হাম পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনের শরীরে হাম এবং দুজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। তবে কতটি নমুনার পরীক্ষার ফল হাতে এসেছে, সে তথ্য জানাতে পারেনি সিভিল সার্জনের কার্যালয়।
গত শনিবার পর্যন্ত ৪৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ছাড়া ৯৫৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে ৪৯ জনকে।





