পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা
কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, আরও দুজন গ্রেপ্তার

কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপের ভাইরাল ভিডিও। ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে মেঘনা নদীতে ফেলে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড ও নাগরিয়াকান্দি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হলেন তিনজন।
তারা হলেন মোহাম্মদ আলী (২৫) শাহিনারা বেগম (৫২) ও রমজান আলী (২২)। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সহযোগী তারা।
এর আগে গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাগরিয়াকান্দি সেতু থেকে কুকুরটির গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেন মোহাম্মদ আলী (২৫)। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে নাগরিয়াকান্দি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নরসিংদী মডেল থানার উপপরিদর্শক নোমান সাদেকিন দণ্ডবিধির ৪২৯/৩৪ ধারায় মোহাম্মদ আলী ও মো. রমজান মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘এনিমেল কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার অব বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজনের সহযোগিতায় একটি কুকুরের গলায় রশি বেঁধে তার অপর প্রান্তে ইট লাগানো হয়। পরে কুকুরটিকে নির্মমভাবে মেঘনা নদীতে নিক্ষেপ করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী জানান, কুকুরটি প্রায়ই উপদ্রব করত এবং মানুষকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করত। এ কারণে সহযোগীদের নিয়ে কুকুরটিকে নাগরিয়াকান্দি সেতুতে নিয়ে যান তিনি। সেখানে গলায় রশি ও ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেন। গলায় ইট বাঁধা থাকায় কুকুরটি তীরে উঠতে না পেরে পানিতে মারা যায়।
নরসিংদী মডেল থানার উপপরিদর্শক নোমান সাদেকিন বলেন, মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শাহিনারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তার শাহিনারা বেগমের কামারগাঁওয়ের বাড়িতে আরও কয়েকটি কুকুরের সঙ্গে নিহত কুকুরটিও থাকত। কুকুরটি অন্যগুলোর তুলনায় বেশি উপদ্রব করত এবং কামড়ে দেওয়ার চেষ্টা করত বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। একপর্যায়ে পাশের বাড়ির মোহাম্মদ আলীকে কুকুরটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন শাহিনারা বেগম। এরপরই কয়েকজনকে নিয়ে কুকুরটিকে নাগরিয়াকান্দি সেতুতে নিয়ে গিয়ে নদীতে নিক্ষেপ করেন মোহাম্মদ আলী।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশের পর অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীকে খুঁজে বের করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে নরসিংদী জেলা ছাত্রদল। অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার শাহীন আরা নামের এক নারী কুকুরটির উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে মোহাম্মদ আলীকে এই কাজে প্ররোচিত করেন। স্থানীয়দের দাবি, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত।





