ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু ১ হাজার ৪৩০, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন ১৭২ জনেরও বেশি মানুষ। ছবি : রয়টার্স
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২৩৮ জন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন ১৭২ জন এবং ভূমিকম্পের পর থেকে নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও জীবিতদের উদ্ধারে চালিয়ে যাচ্ছেন নিরলস চেষ্টা।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর মধ্যে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পন। এতে ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়ে বহু ভবন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়াদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার অভিযান।
এদিকে শুক্রবার উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই ৪ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তুলনামূলকভাবে মৃদু এই কম্পন কারাকাস ও পার্শ্ববর্তী মারাকাই শহরে অনুভূত হয়।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুইরা অঞ্চলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের ধীরগতিকে কেন্দ্র করে বাড়ছে ক্ষোভ। ভারী যন্ত্রপাতির সংকট এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সীমিত উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজার চেষ্টা করছেন।
লা গুইরা শহরের আটটি টাওয়ারবিশিষ্ট ‘হুগো চাভেজ’ আবাসন কমপ্লেক্সের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে তার ছয় বছর বয়সী ছেলে এবং আরও পাঁচজন স্বজন আটকে আছেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় মানুষই নিজ উদ্যোগে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছে। কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো সরানোর জন্য আমাদের ক্রেন দরকার। ভেতরে এখনো মানুষ আটকে আছেন।’
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন বলছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে প্রত্যক্ষ ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক ও জনপদে ভবনগুলো ধসে পরিণত হয়েছে কংক্রিট ও লোহার রডের স্তূপে। উদ্ধারকারীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপে ভবনের নাম লিখে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানী কারাকাস ও ভ্যালেন্সিয়া থেকে মোটরসাইকেলে করে স্বেচ্ছাসেবকেরা দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছেন ত্রাণসামগ্রী।
প্রথমে স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানালেও পরে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাধারণ মানুষকে লা গুইরায় না যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সড়কে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি ও নিবন্ধিত উদ্ধারকারী দল ছাড়া অন্য সবার জন্য রাত আটটার পর দুর্গত এলাকার সড়ক বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লা গুইরার কাতিয়া লা মার শহরে একটি ক্ষতিগ্রস্ত দোকান থেকে স্থানীয় মানুষকে টয়লেট কাগজ, রান্নার তেল, রুটিসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে এসব ঘটনা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন দেলসি রদ্রিগেজ। তিনি দুর্গতদের জন্য ব্যাপক ত্রাণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দেশটির তেলমন্ত্রী পলা হেনাও জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়েনি এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তেল খাতের কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরাও জানিয়েছেন, শিল্পটির বড় ধরনের কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন দেলসি রদ্রিগেজ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ড এবং দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার জন্য ১৫ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দুটি যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার এবং বিমানও পাঠানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে।




