ইভির সম্ভাবনার পেছনে চ্যালেঞ্জ অনেক
- নতুন খাত বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি)
- বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ
- চীনের সঙ্গে ৫০০ ইভি কেনার চুক্তি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) প্রসার দেশের শিল্প খাতে উন্মোচন করেছে নতুন দিগন্ত। পরিবেশবান্ধব এই খাতটি একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষমতা রাখে, অন্যদিকে তৈরি করতে পারে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। তবে এই অপার সম্ভাবনার পূর্ণ সুবিধা নিতে হলে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের মতো বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত দূর করা প্রয়োজন।
গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) যৌথভাবে ‘বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ব্যবহার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে ইভির নির্দিষ্ট রুট ঠিক করার বিষয়টি রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ৫০০টি ইভি বাস কেনা হবে। এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে সেমিনারে জানানো হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বললেন, দেশে বর্তমানে ৬০ লাখ ই থ্রি-হুইলার চলাচল করলেও নিবন্ধিত ইভি গাড়ির সংখ্যা মাত্র ৬৬৯টি। এই বিশাল বাজারকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি মডেলের আওতায় এনে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
রানার অটোমোবাইলস পিএলসির চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেছেন, ইভি খাত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এই শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা যন্ত্রাংশ তৈরির খাতকে যদি প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং তা রপ্তানির তালিকায় যুক্ত করা যায়, তবে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
একই সঙ্গে বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ জানিয়েছেন, পরিবহন খাতে প্রতি বছর প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার আমদানিনির্ভর জ্বালানি প্রয়োজন হয়। ইভির ব্যবহার বাড়ানো গেলে এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
সরকারি সদিচ্ছার কথা জানিয়ে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বললেন, আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস ও দেশের জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এরই মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত সমন্বিত ইভি নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে দ্রুতই চূড়ান্ত হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন বিভাগও এই খাতের শুল্ক কাঠামো সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে আশ্বস্ত করে।




