১০টা-৫টা চাকরি সামলে সময় বের করা কঠিন

জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান
শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু। সময়ের সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন টিভি নাটকের পরিচিত মুখ হিসেবে। সাদনিমা বিনতে নোমানের গল্প শুনেছেন মীর রাকিব হাসান
শুনলাম আপনি অসুস্থ ছিলেন। কী হয়েছিল?
বেশ কিছুদিন জ্বর, ঠান্ডা ও কাশিতে ভুগেছি। এর মধ্যেই আবার বাসায় সিঁড়ি থেকে পড়ে পাঁজরে প্রচণ্ড ব্যথা পাই। এরপর ডাক্তার বেড রেস্টে থাকার পরামর্শ দেন। ঝাঁকুনি লাগে এমন কাজ ও ভারী কিছু তোলা একদম নিষেধ।
সময় কীভাবে কাটছে?
বাসাতেই আছি। দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইমে নানা কনটেন্ট দেখছি। বন্ধুদের কাছ থেকে কিছু বই এনেছি, সেগুলো পড়ছি। পাশাপাশি নতুন কিছু স্ক্রিপ্টও।
কী ধরনের স্ক্রিপ্ট পাচ্ছেন?
খুব ভিন্নধর্মী কিছু না। বেশিরভাগই রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার। আমি চাই আত্মজীবনীমূলক বা থ্রিলার-সাসপেন্স ধরনের গল্পে কাজ করতে। এমন স্ক্রিপ্ট পেলে খুবই খুশি হব।
কিন্তু রোমান্টিক নাটকই তো আপনাকে পরিচিত করে তুলল…
হ্যাঁ তা বলা যায়। এই যেমন ঈদের কয়েকটি নাটক থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। সবই রোমান্টিক। দর্শকদের ভালোবাসা সত্যিই অনুপ্রেরণা দেয়। কিন্তু নিজেকে কোনো টাইপ কাস্টে আটকে রাখতে চাই না। সব ধরনের গল্পেই নিজেকে ঝালাই করতে চাই।
সে রকম গল্প আসেনি?
বেশ কিছু গ্রামীণ চরিত্রে কাজ করেছি, খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ‘জলকুড়ি’ আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। বরিশালের গ্রামের সংস্কৃতির সঙ্গে আমি খুব বেশি পরিচিত ছিলাম না। বরিশালের আঞ্চলিক ভাষাও বলতে হয়েছে। সব মিলিয়ে কঠিন ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভালো ফল পেয়েছি। এরপর থেকে গ্রামীণ চরিত্রে কাজ করার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
খায়রুল বাসারের সঙ্গে আপনার জুটি জমে উঠেছে। কেমন অভিজ্ঞতা?
আমার অভিনয় যাত্রার শুরুটা মূলত তার সঙ্গেই। রোজার ঈদ ও কোরবানির ঈদ মিলিয়ে যখন আমাদের কাজগুলো প্রচারিত হলো, তখন দেখলাম দর্শক আমাদের জুটিকে খুব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন। আশা করছি সামনে আরও কাজ হবে।
অভিনয়ের পাশাপাশি চাকরিও করছেন। দুটি একসঙ্গে সামলানো কতটা কঠিন?
একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছি। দুটো একসঙ্গে সামলানো খুবই কঠিন। এখনো চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ১০টা-৫টা অফিস। মিটিং, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্টসহ অনেক দায়িত্ব থাকে। ফলে সময় বের করা কঠিন হয়ে যায়। জানি না কতদিন পারব। কাজের ব্যস্ততা বাড়লে হয়তো চাকরি ছাড়তে হবে।
পরিবার থেকে কতটা সমর্থন পান?
আমার বয়স তখন সাত তখন থেকেই আমি মিডিয়ায়। বাসার সামনে হাফ স্টপ ডাউনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং চলছিল। শুটিংয়ের ফাঁকে একজন বললেন, তুমি কাজ করবে নাকি? পরে উনি আমার সঙ্গে বাসায় এসেছিলেন। মা-বাবার সঙ্গে কথা বলে যান, ওনারা রাজি হন। দেড় মাসের ব্যবধানে অমিতাভ রেজার একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের সুযোগ পাই। এরপর অনেক বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছি। বাবা-মা সর্বক্ষণ পাশে ছিল বলেই সম্ভব হয়েছে।
সামনে নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে?
জুলাইয়ের শুরুতে এক-দুটি কাজ শুরু হতে পারে। আগস্টে বেশ কিছু কাজের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি ভালো কিছু হবে।
অভিনয় ও চাকরির বাইরে আর কিছু করার ইচ্ছা আছে?
ছোটবেলা থেকে আমি নৃত্যচর্চা করতাম। পড়াশোনার চাপে একসময় চর্চা বন্ধ হয়ে যায়। সময় পেলে আবার নাচে ফিরতে চাই। এটা আমার অনেক দিনের ইচ্ছা।




