গাছ থেকে পেরেক তোলেন ওয়াহিদ

গাছ থেকে পেরেক তুলছেন আবদুল ওয়াহিদ। ছবি: আগামীর সময়
২০১৮ সালের মে মাসের এক সন্ধ্যায় সাড়াপোল বাজারে একটি আমগাছের পাশে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন আবদুল ওয়াহিদ। এমন সময় পিঠ চুলকায়। তখন তিনি পিঠ গাছের সঙ্গে ঘষা দেন। গাছে লাগানো একটি পেরেক তার পিঠে বিঁধে। আঘাত পেয়ে ওয়াহিদ ঠিক করলেন গাছ থেকে এসব পেরেক তুলে ফেলবেন।
যশোর সদর উপজেলার চাচড়া ইউনিয়নের সাড়াপোল গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আবদুল ওয়াহিদ সরদার আট বছরে গাছ থেকে প্রায় ৮৫০ কেজি পেরেক তুলেছেন।
২০১৮ সালের ৪ জুলাই কাজ শুরু করেন তিনি। ওইদিন দুপুরে সাইকেলে শাবল আর কাঠের ছোট তক্তা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। যশোর টাউন হল ময়দানের পাশে মেহগনি গাছ থেকে শাবল দিয়ে তোলেন ছয়টি পেরেক। ওইদিন তিনি আরও ১১ গাছ থেকে তোলেন ৫০টির বেশি পেরেক। এরপর থেকে তিনি সাইকেলে ঘুরে ঘুরে গাছ থেকে পেরেক তুলছেন। সাইকেলের পেছনে থাকে একটি বস্তা, ছোট-বড় পাঁচটি শাবল এবং কাঠের ছোট তক্তা।
আবদুল ওয়াহিদ সরদার (৬১) ছিলেন পেশায় রাজমিস্ত্রি। আট বছর ধরে পেরেক তোলার কাজ করছেন। ঢাকা, যশোর, নড়াইল, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও ঝিনাইদহের প্রায় ২০ হাজার গাছ থেকে তুলেছেন ৮২৭ কেজি পেরেক। গাছ থেকে তোলা পেরেক প্রথমে তিনি সংরক্ষণ করতেন। ২০২৩ সালে ১৮ মণ পেরেক বিক্রি করে দেন গড়ে ২৯ টাকা কেজি দরে। ওই টাকায় সুতীঘাটা-মনিরামপুর সড়কে লাগান ৬০০ গাছ।
২০২৩ সালে যশোরের বিভিন্ন গাছ থেকে তোলা প্রায় ৪০ কেজি পেরেক তিনি যশোর বন বিভাগে জমা দেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গাছ থেকে তোলেন ৩৫ কেজি পেরেক। পেরেক তোলার পাশাপাশি ওয়াহিদ মাঝেমধ্যে দিনমজুরি করেন। স্বেচ্ছাশ্রমে বিভিন্ন জনহিতকর কাজও করেন।
আর্থিক অনটনের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি ওয়াহিদ। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ওয়াহিদের সংসার। নিজ উদ্যোগে সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাস্তার পাশে, মসজিদ, মন্দির ও পতিত জায়গায় বৃক্ষরোপণ এবং পরিচর্যা করে বৃক্ষবন্ধু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
ওয়াহিদ জানালেন, যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে নিজের টাকায় তিনি ৩০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার গাছ বেঁচে আছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২১ পেয়েছেন।




